ইফতেখার আলম বিশাল: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় পুলিশের সোর্স সন্দেহে দুই যুবককে পিটিয়ে আহত করার পর মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে আন্তজেলা ট্রাক ছিনতাইকারি দলের সদস্য আসরাফুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

ওই দুই যুবকের নাম সাব্বির হোসেন (২৯) পুঠিয়া থানাধীন কাঠাল বাড়িয়া এলাকার সবুরের ছেলে ও একই থানার বাড়ইপাড়া এলাকার শাহাদাতের ছেলে নাহিদ হোসেন (২৩)। গত ২১ এপ্রিল বিকেল ৫টার দিকে চারঘাট থানার ঝিকড়া এলাকায় এঘটনা ঘটায়।
ভুক্তভোগী সাব্বির হোসেন জানান, ওইদিন জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশের সহযোগীতা চায় সাব্বির। এসময় চারঘাট থানা পুলিশের এক এসআই মোবাইল ফোনে কথা বলেন সাব্বিরের সাথে এবং ঘটনাস্থলের ঠিকানা জানতে চান। সাব্বির তাকে বলেন, আমরা মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে অন্য এক গ্রামে আত্মগোপন করে আছি। এসময় ওই এসআই উল্টো তাকে ধমক দিয়ে বলেন, আপনারা ফেনসিডিল বহন করছিলেন এ কারণে মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্নরকম প্রশ্ন করে তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন ওই এসআই।
এসময় সাব্বির তার মোটরসাইকেল উদ্ধারে তার সহযোগীতা চান। তিনি ওই চক্রের শাকিল নামের এক সদস্যর কথা বলতেই মাদকের সাথে জড়িত থাকার কথা বলেন সাব্বিরকে।
সাব্বির হোসেন আরও জানান, আসরাফুল ইসলামসহ চক্রের অন্যান্য সদস্যরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেনা।
আন্তজেলা ট্রাক ছিনতাইকারীদের মূল হোতা আসরাফুল ইসলামের (৩০) গ্রামের বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার বাড়ইপাড়া পিরগাছা গ্রামে। তার বাবার নাম তশির উদ্দিন।
তার বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানাসহ বিভিন্ন থানায় চুরি ছিনতাইসহ মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান, পুঠিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ।
তিনি বলেন, গত ২৮ মার্চ রাতে ট্রাকে বহনকৃত এক বস্তা মালামালসহ মিজানুর রহমান (২২) নামের এক চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেড়িয়ে আসে ট্রাক ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য।
এছাড়া স্থানীদের দেয়া তথ্য মতে আসরাফুল একজন কুখ্যাত ট্রাক ছিনতাইকারি চক্রের মুল হোতা। চুরি ও ছিনতাই করা টাকায় দুটি পিকআপ গাড়ি ক্রয় করেছেন এবং তার পিকআপ দুটি চুরি করা মালামাল বহন কাজে ব্যবহার করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।
রাজশাহী হাইওয়ে পুলিশের একটি সুত্র জানায়, পুঠিয়া উপজেলার মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে সন্ধ্যার পর ছিনতাইকারি চক্রের টিম কাজ শুরু করে। তাদের কয়েকজন মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রাক চিহিৃত করে। এরপর মোটকসাইকেলে ও আসরাফুলের পিকআপে অন্যান্য সদস্যরা ওই মালবাহী ট্রাকের পিছু নেয় এবং ফাঁকা সড়কে সুযোগ বুঝে ট্রাকের উপরে উঠে পড়ে। এরপর ট্রাকের তীরপল কেটে মালামাল রাস্তার ধারে ফেলে দেয়। পরে পিকআপে থাকা অন্যান্য সদস্যরা তুলে নিয়ে পিকআপ লোড করে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই চলন্ত ট্রাকে মালবাহী ট্রাক থেকে পণ্য লুট করছে চক্রটি বলে জানায় সুত্রটি।
এব্যাপারে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক হোসেন জানান, পণ্যবাহী ট্রাকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় আসরাফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু হযেছে। মিজানুর রহমান নামের একজন সদস্য আটক হলেও পলাতক রয়েছে আসরাফুল ইসলামসহ চক্রের অন্যান্য সদস্যরা। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সনি বাংলা ডট কম/ইআবি


















