রাজশাহী প্রতিনিধি: মামাতো বোনের কাছ থেকে নেওয়া ৮ লাখ টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগে করা চেক ডিজঅনার মামলায় রাজশাহী জেলা ট্রাক-ট্রেইলার-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মানাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) মামলাটির রায়ের দিন ধার্য ছিল। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত মানাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মধু জানান, মানা তার এক মামাতো বোনের কাছ থেকে চেকের বিনিময়ে ৮ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ওই টাকা পরিশোধ না করায় চেকটি ডিজঅনার হলে তার মামাতো বোন আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় সোমবার রায় ঘোষণা করা হয়।
মধু বলেন, আদালত মানাকে বিষয়টি মীমাংসার সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সেই সুযোগ কাজে লাগাননি। তবে মামলার বাদীর নাম তিনি জানেন না বলে জানান। বাদী মতিহার থানার তালাইমারি এলাকার বাসিন্দা বলেও জানান তিনি।
মানার বিরুদ্ধে আদালতের রায়ের পর সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক।
এদিকে মানার বিরুদ্ধে সিলেটের এক কয়লা ব্যবসায়ীর প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মধু বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে ঘটনাটি প্রায় পাঁচ বছর আগের হওয়ায় বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি।
শ্রমিক ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, প্রায় আট বছর আগে সিলেটের ওই কয়লা ব্যবসায়ীর সঙ্গে মানার ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি হয়। ওই ব্যবসায়ী রাজশাহীর বিভিন্ন ইটভাটায় কয়লা সরবরাহ ও বিক্রির সুযোগ দেন তাকে। প্রতিটি ট্রাকে কয়লা সরবরাহের বিপরীতে মানার কমিশন পাওয়ার কথা ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সুযোগে মানা বিভিন্ন সময়ে সিলেটের ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকার কয়লা নিয়ে রাজশাহীর বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করেন। কিন্তু কয়লা বিক্রির টাকা ব্যবসায়ীর হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওই শ্রমিক নেতা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে সিলেটের ওই ব্যবসায়ী মানার কাছ থেকে চেক ও স্ট্যাম্প নিয়েছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে মামলার বাদীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক নেতারা অভিযোগ করে বলেন, মামলা হওয়ার পরও দীর্ঘদিন মানা প্রকাশ্যে চলাফেরা করেছেন। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রভাবের কারণে এতদিন তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তাদের আরও অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর মানা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী জেলা ট্রাক-ট্রেইলার-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। তবে সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, নিয়মিত নির্বাচন ছাড়াই মানাকে সভাপতির পদে বসানো হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কারন তিনি কারাগারে রয়েছেন।
একইভাবে সিলেটের কয়লা ব্যবসায়ী এবং ৮ লাখ টাকা সংক্রান্ত মামলার বাদীর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
আদালতের রায়ের পর মানাকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে রাজশাহীর পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা একজন নেতার বিরুদ্ধে অর্থসংক্রান্ত মামলায় সাজা হওয়ায় সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার পদ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিও এখন আলোচনায় রয়েছে।


















