রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন ও আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বিরোধের জেরে সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজশাহী থেকে ঢাকা-সহ সব রুটে কয়েক ঘণ্টার জন্য বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় রাত ৮টার দিকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে শ্রমিকদের একটি অংশ মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।
সোমবার বিকেল ৪টার দিকে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে তাঁর সম্মেলন কক্ষে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন ও আর্থিক হিসাব নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। কমিটিতে জেলা প্রশাসনের একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে শ্রম অধিদপ্তর, রাজশাহী মহানগর পুলিশ, শ্রমিক ফেডারেশন এবং বাস মালিক সমিতির একজন করে প্রতিনিধিকে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এ সময় কমিটিতে বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধি রাখার বিরোধিতা করেন জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এরশাদ আলী পল্টু। তাঁর বক্তব্যের সময় রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়ে যায়।
বৈঠক শেষে শ্রমিকদের একটি অংশ বাস টার্মিনালে গিয়ে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় নজরুল ইসলাম হেলালের মালিকানাধীন **স্বরণী স্পেশাল (নিউ হিমাচল)** কাউন্টারে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে তাঁর একটি বাসে ভাঙচুরের চেষ্টা হলে অন্য শ্রমিকরা বাধা দেন।
শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক নেতা হারুন বলেন, আপাতত বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য জেলার বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলেও তিনি জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন প্রশ্নে শ্রমিকদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন-সমর্থিত বর্তমান কমিটির নেতারা নির্বাচন না করে বিদ্যমান কমিটি বহাল রাখার পক্ষে বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চালাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, “জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। শ্রমিকদের একটি পক্ষ এর বিরোধিতা করে। পরে তারা কাউন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সেখানে অধিকাংশই বহিরাগত এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থক ছিল বলে আমাদের ধারণা। আমরা নির্বাচনের পক্ষে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন হোক, সেটিই চাই। শ্রমিকরা আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়েছেন, আমরা তা দিতেও প্রস্তুত ছিলাম।”
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তারি বেগম বলেন, “বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। বর্তমানে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।”