ইফতেখার আলম বিশাল: বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছয় মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় আয়োজিত সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি। পরে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল ও অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান।
প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া। তিনি ‘বেস্ট প্রবেশনার’ ও ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’—এই দুটি ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া ‘বেস্ট একাডেমিক’ পুরস্কার পান শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং ‘বেস্ট শ্যুটার’ নির্বাচিত হন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ এ. বি. এম. মামুন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়; বরং দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক বাহিনী হিসেবে জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং ডিজিটাল অপরাধ দমনে দক্ষতা অর্জনের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি নবীন কর্মকর্তাদের জনগণের আস্থা অর্জন, চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের বন্ধু ও সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া ৫৮ জন সহকারী পুলিশ সুপারকে বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন করা হবে।