তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে টানা বৃষ্টিতে সবজিখেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।এতে বাজারে কয়েকগুণ বেড়েছে প্রতিটি সবজির দাম।সবজি কিনতে নিম্ন আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস।সবজি বাজারে গিয়ে কোন ভাবেই হিসেব মিলাতে পারছেন না ক্রেতারা। ২০ থেকে ২৫ টাকার সবজি এখন ৫০ থেকে ৮০ টাকা।
জানা গেছে,তানোরে তেমন সবজি চাষাবাদ হয় না।তানোরে সবজির চাহিদা মেটায় পার্শ্ববর্তী মোহনপুর উপজেলা।কিন্ত্ত গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে মোহনপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের সবজিখেত প্লাবিত হয়েছে।এতে হঠাৎ সবজির যোগান কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার (২৪জুলাই) তানোর পৌরসভার গোল্লাপাড়া ও কালিগঞ্জ হাটে দেখা গেছে,সবজির দাম শুনেই ক্রেতারা চমকে উঠে।কারণ ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নাই। হাটে আগত হৃদয় নামের এক ক্রেতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন,
৫০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত সবজির কেজি।আমরা সাধারণ মানুষ কিভাবে সবজি কেনবো কোথায় যাবো।অথচ গত সপ্তাহে যে সবজির দাম ছিলো ২০ টাকা এখন সেটা ৫০ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজর, টমেটো ও শসা ১৪০ টাকা কেজি, ঢেড়শ ও কচু ৬০ টাকা,মিস্টি কুমড়া ৫০ টাকা, বেগুন ১৪০ টাকা, পেপে ৫০ টাকা, কাচা কলা ৪০ টাকা হালি, কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকা কেজি,লাল শাক ১৫ টাকা,ফুলকপি ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা,কাকরোল ৬০টাকা,
পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা ও হিমাগারের আলু ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।এছাড়াও মাছ, বয়লার, সোনালী ও লেয়ার মুরগীর দামও বেড়েছে।আলু ও ধান ব্যতিত প্রতিটি সবজির দাম আকাশ ছোঁয়া।
আব্দুল হাকিম বলেন, কি কিনবো এক হাজার টাকা নিয়ে বাজারে গিয়ে কয়েকটা সবজি আর মসলা কিনতেই পকেট ফাঁকা।
জানা গেছে, জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের থেকে পর টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল, বিল, নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। এতে নষ্ট হয় সবজিখেত।বিক্রেতারা জানান, প্রতি হাটে যে পরিমান সবজি আমদানি হয় সে তুলনায় আমদানি কম হয়েছে। পাইকারি ভাবে দিগুন দাম বেড়েছে। যার কারনে হঠাৎ করেই সবজির দাম বাড়তি। এভাবে চলতে থাকলে আরো দাম বাড়বে। বাজারে গিয়ে ক্রেতারা কোনভাবেই হিসাব মিলাতে পারছে না। কারণ ধান-আলুর দাম নেই। কিন্ত্ত তানোর উপজেলার সিংহভাগ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস ধান ও আলু।তবে কষ্টার্জিত এসব ফসলের কাঙ্ক্ষিত দাম না থাকায় চরম হতাশায় পড়েছেন এসব মানুষ।