Wednesday , 3 December 2025 |
  1. আইন
  2. আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উপসম্পাদকীয়
  5. কৃষি
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম
  9. চাকরীর খবর
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. দেশের খবর
  14. নারী
  15. বরিশাল

বরেন্দ্রভূমিতে দ্রুত কমছে ফসলি জমি, খাদ্য নিরাপত্তায় বাড়ছে শঙ্কা

প্রতিবেদক
sonynews
December 3, 2025 1:18 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষিজমির পরিমাণ। উর্বর জমি দখল করে আবাসন, শিল্পকারখানা, পুকুর ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় কৃষিকাজে আগ্রহ হারিয়ে অনেক কৃষক শহরমুখী হচ্ছেন। তিন-চার ফসলি জমিও বসতবাড়ি, কলকারখানা ও পুকুর খননের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষিনির্ভর বরেন্দ্র অঞ্চলে খাদ্য ঘাটতির ঝুঁকি বাড়ছে।

প্রভাবশালী ভূমিগ্রাসী চক্র কৌশলে প্রথমে ফসলি জমির মাঝখানে ছোট আকারে পুকুর খনন করে। পরবর্তীতে ওই পুকুরের কারণে আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বাধ্য হয়ে জমি লীজ দিতে সম্মত হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুকুর ব্যবসায়ী জানান, “বিঘাপ্রতি ৩০ হাজার টাকা খরচ করলেই রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন ও সাংবাদিক সবাইকে ম্যানেজ করে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা যায়।”

তানোর ও আশপাশের চাঁন্দুড়িয়া, কামারগাঁ, নেজামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএমডিএর গভীর নলকূপ–সুবিধাভুক্ত শত শত একর ফসলি জমিতে পুকুর তৈরি হয়েছে। এসব জমি এখনো কৃষি শ্রেণিভুক্ত থাকায় পুকুর মালিকরা বছরে মাত্র ৬৪ টাকা খাজনা দিচ্ছেন, যেখানে প্রকৃত খাজনা এক হাজার টাকার বেশি হওয়া উচিত। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। একইসঙ্গে জলাধার গড়তে গিয়ে গভীর নলকূপগুলোও অকেজো হয়ে পড়ছে।

ঐতিহাসিক বরেন্দ্রভূমির ৯ হাজার ৩২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা একসময় ছিল মৌসুমি বৃষ্টিনির্ভর কৃষির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা শস্যভাণ্ডার। কিন্তু গত চার দশকে এই অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার হেক্টর কৃষিজমি কমে গেছে। ধানের জমিতে গড়ে উঠছে বাড়িঘর, ইটভাটা, ক্ষুদ্র শিল্পকারখানা, পুকুর ও ফলের বাগান। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ এলাকার হিসাব অনুযায়ী, গত দশকে রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৯০ হাজার হেক্টর আবাদি জমি হারিয়েছে।

অপরদিকে, নদীভাঙনে উদ্বাস্তু শত শত পরিবার প্রতিবছর বরেন্দ্র এলাকায় কৃষি জমিতে বসতি গড়ে তুলছে। বিশেষ করে রাজশাহীর পবা-গোদাগাড়ী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে এই প্রবণতা বাড়ছে।

কৃষিজমি রক্ষায় সরকার প্রণয়ন করেছে ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’। এই আইনে অনুমোদন ছাড়া কৃষিজমিতে পুকুর, আবাসন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণকে দণ্ডনীয় অপরাধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে এই আইন কার্যকর না হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, “আবাসন-নির্মাণ, পুকুর খনন ও ইটভাটা স্থাপনের কারণে লাগাতার আবাদি জমি কমছে। আইনের প্রয়োগ ও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া এই প্রবণতা থামানো কঠিন হবে। জমি কমতে থাকলে ভবিষ্যতে বর্ধিত জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা পূরণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।”

দেশে বর্তমানে মাথাপিছু কৃষিজমির পরিমাণ মাত্র ১৪ শতাংশ। জোনিং প্রকল্পের সর্বশেষ জরিপ জানায়, বরেন্দ্রভূমিতে প্রতিদিনই ২২০ হেক্টর কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে। এভাবে জমি কমতে থাকলে ২০৫০ সালে মাথাপিছু জমি দাঁড়াবে মাত্র ৬.২০ শতাংশে।

কৃষকেরা বলছেন, “আইন থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা নেয় না। ফলে একের পর এক কৃষিজমি উজাড় হয়ে যাচ্ছে।”
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন-এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে বরেন্দ্রভূমির কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও সামগ্রিক অর্থনীতি বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

সর্বশেষ - আইন

আপনার জন্য নির্বাচিত

পিত্তথলিতে পাথর কেন হয়, কারা বেশি ঝুঁকিতে?

রাজশাহী নগরীতে ভূয়া কাজীর জাল ভলিয়ম জব্দ, জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে হস্তান্তর

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যু নিয়ে গুরুতর অভিযোগ করল জামায়াত

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজশাহীতে ব্যাপক প্রস্তুতি

শনিবার রাজশাহী সফরে আসছেন ধর্ম উপদেষ্টা

রাজশাহীতে রাজপাড়া থানার প্রজন্ম দলের দোয়া মাহফিল ও কর্মীসভা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

ফারাক্কা ‘মরণ ফাঁদ’: ভাসানীর লংমার্চের ৫০ বছর পরও পানি সংকটে বাংলাদেশ

রাজশাহীতে বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরহী নিহত

কয়েরদাঁড়া খ্রিস্টানপাড়ার প্রধান ফটক ও ইউনিব্লক রাস্তার উদ্বোধন করলেন রাসিক প্রশাসক