স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহী নগরীর উপশহরে ‘রাজশাহী কালাই হাউজ’ নামের হোটেল ও জমির মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের আপাতত আপোষ মীমাংসা হয়েছে। গত ৪ নভেম্বর কোর্ট মোকামে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তিনটি ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে এফিডেভিট করে উভয়পক্ষ এই সমঝোতায় পৌঁছায়। তবে বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হোটেলটি তালাবদ্ধ থাকবে। এ সময় কোনো পক্ষই দোকানের তালা ভাঙতে বা জোরপূর্বক প্রবেশ করতে পারবে না।
এর আগে গত ১ থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত হোটেল ও জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উভয়পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করে। বিষয়টি গণমাধ্যমেও আলোচনায় আসে।
এক পক্ষের অভিযোগ, ভাড়ার মেয়াদ শেষ হলেও হোটেল ছাড়ছেন না ভাড়াটিয়া জাহাঙ্গীর কবির। অন্যদিকে জাহাঙ্গীর কবিরের দাবি, প্রায় পৌনে দুই কাঠা জমির অধিকাংশ অংশীদার বায়নামূলে তাঁর কাছে বিক্রি করেছেন। ফলে জমি ও হোটেলের মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, ওয়ারিশসূত্রে ওই জমির মোট নয়জন অংশীদার রয়েছেন। হোটেলটি নিজেদের দখলে নিতে জমির অংশীদাররা দুই দিন অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেন। উভয়পক্ষ বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় একজন সংসদ সদস্যের (এমপি) কাছেও যান। তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেন।
বিরোধের সমাধানে গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া মডেল থানায় উভয়পক্ষের বসার কথা থাকলেও নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে একই দিন কোর্ট মোকামে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে আপোষ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এফিডেভিটে উল্লেখ করা হয়, হোটেলের ভাড়া ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের সুষ্ঠু সমাধানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত ‘কালাই হাউজ’ দোকানঘরটি তালাবদ্ধ থাকবে।
এতে আরও বলা হয়, প্রথম পক্ষ (জমির আংশিক মালিক) কিংবা দ্বিতীয় পক্ষ জাহাঙ্গীর কবির (ভাড়াটিয়া ও বায়নামূলে আংশিক মালিক)—কেউই কোনো অবস্থাতেই দোকানের তালা ভাঙতে বা জোরপূর্বক প্রবেশ করতে পারবেন না। উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে আলোচনা ও চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী দোকানের তালা খোলা এবং হস্তান্তর বা ব্যবহারের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের একজন জানান, লিখিত সমঝোতা অনুযায়ী বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হোটেল ও জমির দখল নিয়ে কোনো পক্ষই নতুন করে কোনো পদক্ষেপ নেবে না।


















