স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের চন্দ্রিমা, পবা, বেলপুকুর, বোয়ালিয়া থানার শিরোইল পুলিশ ফাঁড়ি, কর্ণহার ও মতিহার থানা পুলিশের পৃথক পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, গাঁজাসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী ও ১ মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেইসাথে মাদক বিক্রির নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।
গত ০৩ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ বালানগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মৃত হযরত আলীর ছেলে মো: আনিসুর রহমান (৪৯)-কে গ্রেপ্তার করলেও তার স্ত্রী মোসা: শিরিনা বেগম (৪৪) পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। এসময় আনিসুরের হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ৭০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে মাদক বিক্রির নগদ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি ও তার পলাতক সহযোগী পরস্পরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
অপরদিকে, পবা থানা পুলিশ একই তারিখ রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে নওহাটা পৌরসভার দুয়ারী গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে কর্ণহার থানার ধর্মহাটা গ্রামের মো: ইয়ানুস আলীর ছেলে মো: সুমন আলী (৩৫) এবং পবা থানার দুয়ারী গ্রামের মো: রেজাউলের ছেলে মো: আল-আমিন (২৭)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় তাদের হেফাজত থেকে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা মোট ১০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
তাছাড়াও বেলপুকুর থানা পুলিশ একই তারিখ সকাল আনুমানিক সোয়া ৯টার দিকে দক্ষিণ জামিরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে একই গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো: নয়ন আলী (৪৬)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারকৃত নয়নের বিরুদ্ধে বেলপুকুর থানায় ৩টি মাদক মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে বোয়ালিয়া থানার শিরোইল পুলিশ ফাঁড়ি একই তারিখ রাত আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে শালবাগান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কাদিরগঞ্জ দড়িখড়বনা গ্রামের মো: ওহিদুল ইসলামের ছেলে মো: মনির (২২) এবং উপ-শহর নিউ মার্কেট গ্রামের মো: নবীর ছেলে মো: লিটন (২০)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় মনিরের হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামি লিটন দীর্ঘদিন ধরে আসামি মনিরের সহযোগী হিসেবে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
এদিকে কর্ণহার থানা পুলিশ একই তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক সোয়া ৭টার দিকে স্বরমংলা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে একই গ্রামের মো: আহাদ আলীর ছেলে মো: ফয়সাল রহমান (২৫)-কে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার হেফাজত থেকে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ২০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এছাড়াও মতিহার থানা পুলিশ একই তারিখ সকাল আনুমানিক পৌনে ১১টার দিকে খোঁজাপুর পশ্চিমপাড়া (কানামারী পুকুর) এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ধরমপুর গ্রামের মো: সেরাজুলের ছেলে বর্তমানে খোঁজাপুর পশ্চিমপাড়া (কানামারী পুকুর) গ্রামে বসবাসরত মো: রুমন (২৮)-কে মাদক গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডল সেবনরত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহীতে আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হলে চিকিৎসকের মতামতের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মতিহার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়। উল্লেখ্য, আসামি রুমনের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় ৩টি মাদক ও ২টি পেনাল কোড আইনে মামলা রয়েছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক পৃথক মামলা রুজু করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


















