অনলাইন ডেস্ক: কেন্দ্রীয় নির্দেশনা থাকলেও রাজশাহীতে নূর হোসেন দিবসের কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামেননি আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাজশাহীর কোথাও দলটির পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি পালনের খবর পাওয়া যায়নি। রোববার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দখলেই ছিল রাজশাহী।
এ দিন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিচারের দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।
রোববার দুপুরে রাজশাহীর জিরোপয়েন্টে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। আগের রাতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচিতে রাজশাহীর বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা প্রথমে রাজশাহীর জিরোপয়েন্ট গণজমায়েতে মিলিত হন। পরে সেখানে সমাবেশ শুরু হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নূর হোসেনের কাঁধে চেপে পতিত সরকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রত্যাবর্তন এখন আর কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে, যা বাস্তবায়ন হবে না। নিজ হাতে গণতন্ত্র হত্যা করে, গণহত্যা চালিয়ে ভুয়া হুঙ্কার দিয়ে ফিরে আসাতে চাইলে শিক্ষার্থীরাই তাদের প্রতিহত করবে। আর গণতন্ত্র রক্ষায় শিক্ষার্থীরা মাঠে ছিল; শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবে।
বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে ও জুলাই গণহত্যার বিচার মেনে নিতে বলেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বিচার ব্যবস্থা ও সংস্কার প্রক্রিয়া মানতেও দাবি করেন তারা। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ফ্যাসিজম প্রতিহত করতে যেকোনো সময়, যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা মাঠে নামতে এবং থাকতে প্রস্তুত। তারা ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে ঢালা রক্ত কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেবেন না।
দুপর ১২টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী এ বিক্ষোভ কর্মসূচি চালান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। এ সময় জিরোপয়েন্ট ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে পুলিশ।
বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার, মো. মুন্না, সাব্বির হোসেন, রাজশাহীর অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুর রহিম, রাবির সমন্বয়ক রাশেদ রাজন, মো. রাতুল ও রাজশাহী কলেজের সমন্বয়ক মহুয়া জান্নাতসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।





