নিজস্ব প্রতিবেদকঃ একদিকে চলছিল আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। আর এই অনুষ্ঠানস্থল থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরেই কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়ে চলছিল মানববন্ধন। প্রতিবাদী এই কর্মসূচিতে দাঁড়িয়েছিলেন, চিনিকলের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
ব্যতিক্রমী এই মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে গ্র্যাচুইটির টাকার দাবি জানান তারা।
শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) বিকালে রাজশাহী চিনিকলের ২০২৩-২৪ আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন এভাবেই পাওনা টাকা দাবি করেন অবসরপ্রাপ্ত অসহায় শ্রমিকরা।
মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে তারা জানান, চিনিকল থেকে অবসর গ্রহণের পর সাত-আট বছর ধরে তারা গ্র্যাচুইটির টাকার জন্য দরজায় দরজায় ঘুরছেন। কিন্তু গ্র্যাচুইটির টাকা পাচ্ছেন না। এর কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। টাকার অভাবে অনেকে বিনাচিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন।
রাজশাহী চিনিকলের অবসরে যাওয়া ৩২০ জন শ্রমিক কর্মচারী গ্র্যাচুইটির প্রায় ৩০ কোটি টাকা পাবেন। একেকজন ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা আছেন। সাত-আট বছর ধরে তাদের টাকা দেওয়া হচ্ছে না। এরমধ্যে একবার ৫০ হাজার ও একবার ৩০ হাজার টাকা করে দিয়েছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ। তবে তারা সব টাকা একসঙ্গেই পরিশোধের দাবি জানাচ্ছেন।
মানববন্ধনে ছোট্ট নাতিকে নিয়ে কাফনের কাপড় জড়িয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মিনা বেগম। তিনি বলেন, তার স্বামী মো. আলী বাচ্চু চিনিকলের মৌসুমি করণিক ছিলেন। অবসর নিয়েছিলেন ২০১৮ সালে। কিন্তু গ্র্যাচুইটির টাকা পাননি। ইতোমধ্যে নানা অসুখে ভুগে বিনাচিকিৎসায় তিনি মারা গেছেন। তারপরও তারা টাকা পাননি। টাকা পেলে স্বামীর চিকিৎসা করাতে পারতেন।
চিনিকল থেকে অবসরে যাওয়া জ্যেষ্ঠ করণিক জাকির হোসেন জানান, ২০২০ সালে তিনি অবসরে গেছেন। কিন্তু এখনও গ্র্যাচুইটির টাকা পাননি। এরমধ্যে দুইবারে ৮০ হাজার টাকা পেলেও তা কাজে লাগানো যায়নি। তাই সব পাওনা টাকা তারা একসঙ্গেই চান।
চিনিকলের সেন্টার ইনচার্জ পদ থেকে ২০২১ সালে অবসরে যাওয়া শ্রমিক বশির উদ্দিন বলেন, ‘চিনিকলের শ্রমিকদের ঘরে খাবার নেই। অনেকের বাড়িতে চুলো জ্বলছে না। শ্রমিকরা অনাহারে অর্ধাহারে দিন পার করছেন। অথচ পাওনা টাকা মিলছে না। কত দিন এই অবস্থা চলতে পারে সেই প্রশ্ন রাখেন।
এদিকে শ্রমিকদের এই কর্মসূচি যখন চলছিল তখন পাশেই হচ্ছিল আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের যুগ্মসচিব ও পরিচালক (অর্থ) খোন্দকার আজিম আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল বাশার। অনুষ্ঠানে ছিলেন হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জেবর আলীসহ অন্যান্য অতিথিরাও। পরে তারা আখ মাড়াই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এ সময় অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের গ্র্যাচুইটির টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের যুগ্মসচিব ও পরিচালক (অর্থ) খোন্দকার আজিম আহমেদ বলেন, তিনি সবই দেখেছেন। তাই শ্রমিকদের টাকা পরিশোধের ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।