রবিবার , ১ নভেম্বর ২০২৬ | ১৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. আইন
  2. আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উপসম্পাদকীয়
  5. কৃষি
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম
  9. চাকরীর খবর
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. দেশের খবর
  14. নারী
  15. বরিশাল

রাজশাহীতে কালাই হাউজের জমি নিয়ে ওয়ারিশদের বিরোধ, হোটেলের সামনে অবস্থান

প্রতিবেদক
sonynews
নভেম্বর ১, ২০২৬ ২:০৪ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নগরীর উপশহর নিউমার্কেটের সামনে জনপ্রিয় কালাই রুটির হোটেল ‘রাজশাহী কালাই হাউজ’-এর জায়গার মালিকানা ও দখল নিয়ে ওয়ারিশদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। জমির ভাড়া চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া, বায়নাসূত্রে জমি বিক্রি এবং নিবন্ধন না হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা চলছে। এরই মধ্যে রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে জমির মালিক দাবিদার ওয়ারিশদের একাংশ হোটেলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

বিবাদমান জমিটি প্রায় ১ দশমিক ৭৫ কাঠা। এর মূল মালিক ছিলেন মৃত জিএম মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর ওয়ারিশদের দাবি, তিন বছরের জন্য জাহাঙ্গীর কবীরের কাছে হোটেল পরিচালনার উদ্দেশ্যে জমিটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। গত ৩১ অক্টোবর চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও ভাড়াটিয়া জায়গাটি ছেড়ে দিচ্ছেন না। অন্যদিকে, বায়নাসূত্রে জমির অংশবিশেষ কেনার দাবি করে হোটেল পরিচালনাকারী পক্ষ বলছে, ওয়ারিশদের সঙ্গে জমি কেনার চুক্তি থাকলেও তাঁরা এখনো দলিল নিবন্ধন করে দিচ্ছেন না। ফলে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের পথে এগোতে চান তাঁরা।

জানা গেছে, জমিটির মোট ওয়ারিশ বা অংশীদার নয়জন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের কাছ থেকে পৃথকভাবে জমির অংশবিশেষ বায়নাসূত্রে কেনার চুক্তি করেন দ্বীন ইসলাম ও জাহাঙ্গীর কবীর।

কাদিরগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুল রশিদ শেখের ছেলে দ্বীন ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ৩ জুন তিনি জমির ০.০০৫১ একর অংশ কেনার জন্য মূল মালিকের তিন মেয়ে মরিয়ম জমিলা, হাছিনা দিলরুবা ও সাকিলা তাসকিনের সঙ্গে বায়না করেন। এ ছাড়া মৃত মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রী রিজিয়া ও মেয়ে তাহসিনা মুস্তারীর অংশও বায়নামূলে কেনার চুক্তি করেন তিনি। এসব চুক্তির বিপরীতে মোট ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ২৯ লাখ টাকা জমি রেজিস্ট্রির সময় দেওয়ার কথা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর মূল মালিকের ছেলে মাহমুদুর রহমান তাঁর অংশের জমি ৩০ লাখ টাকায় জাহাঙ্গীর কবীরের কাছে বায়না করেন। এ বাবদ পাঁচ লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। বাকি ২৫ লাখ টাকা দলিল নিবন্ধনের সময় পরিশোধের কথা ছিল।

জমিটি নিয়ে বিরোধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভাড়ার চুক্তি। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর মৃত জিএম মোস্তাফিজুর রহমানের তিন ছেলে তিন বছরের জন্য জাহাঙ্গীর কবীরের কাছে জায়গাটি ভাড়া দেন। মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৪৫ হাজার টাকা। সেখানে জাহাঙ্গীর কবীর কালাই রুটির ব্যবসা শুরু করেন। ওই চুক্তির মেয়াদ গত ৩১ অক্টোবর শেষ হয়েছে।

মূল মালিকের ছেলে মোমিন জানান, পৈতৃক জায়গাটি জাহাঙ্গীর কবীরের কাছে ভাড়া দেওয়া হলেও তাঁর বোন ও সৎ মা-বোনেরা ভাড়ার টাকা থেকে কোনো অংশ পেতেন না। এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধ তৈরি হয়। তাঁর ধারণা, এ কারণেই বণ্টননামা সম্পন্ন হওয়ার আগেই কয়েকজন ওয়ারিশ নিজেদের অংশ বায়নাসূত্রে বিক্রি করেছেন। বায়নার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও ক্রেতারা তা নিতে চাননি বলে দাবি করেন তিনি।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ওয়ারিশদের পক্ষের বক্তব্য, ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জায়গাটি ছেড়ে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি পৈতৃক সম্পত্তির মালিকানা ও অংশ বুঝে পাওয়ার দাবি থেকেই তাঁরা হোটেলের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

অন্যদিকে, বায়নাসূত্রে জমি কেনার দাবি করা পক্ষের বক্তব্য, ওয়ারিশদের সঙ্গে একাধিকবার জমি নিবন্ধনের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও নানা অজুহাতে তা সম্পন্ন করা হয়নি। তাঁদের দাবি, জনপ্রিয় এই হোটেল বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি না করে কাগজপত্র ও দলিলাদি পর্যালোচনার মাধ্যমে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিষয়টির সমাধান হওয়া উচিত।

জানা গেছে, বিরোধের বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ স্থানীয় একজন সংসদ সদস্যের কাছেও গিয়েছিলেন। তিনি তাঁদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে কালাই হাউজের জায়গাটি নিয়ে বিরোধ এখন জমির মালিকানা, বায়নাচুক্তির বৈধতা, দলিল নিবন্ধন এবং ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ—এই চারটি প্রশ্নে এসে দাঁড়িয়েছে। জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখলের অধিকার কার, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, বায়নাচুক্তি এবং ভাড়ার চুক্তি পর্যালোচনা করে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ - আইন

আপনার জন্য নির্বাচিত