অনলাইন ডেস্ক: চারপাশ থেকে ঘিরে ধরেছে একদল বখাটে। মোবাইল ফোনের ক্যামেরার ফ্ল্যাশলাইট আর অশ্লীল কটূক্তিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চারপাশ, যেখানে মুহূর্তের মধ্যে কর্তব্য জ্ঞান হারিয়ে দৌড়ে পালানোর দশা হতে পারত যেকোনো কিশোরের। কিন্তু ভারতের বিহারের জামুইয়ে মাদওয়া পাহাড়ের সেই রোমহর্ষক মুহূর্তেও মাথা ঠান্ডা রেখেছিলেন এক কিশোর। বিপদের মুখেও সহপাঠী মেয়েটিকে একা ফেলে একচুলও নড়েনি সে। কাপুরুষের মতো পালিয়ে না গিয়ে শেষ পর্যন্ত আগলে রেখেছিলেন তাকে। আর এই সাহসিকতাই এখন খবরের শিরোনাম ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় সম্প্রতি পুলিশ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করলেও, পুরো দেশের মানুষের নজর কেড়েছে সেই কিশোরের অবিচল হিরোইজম। এবিপি লাইভ, জি নিউজসহ কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন কোচিং শেষ করে স্কুটারে চড়ে মাদওয়া পাহাড় এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিল ওই দুই কিশোর-কিশোরী। ফেরার পথেই তাদের গতিরোধ করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। শুরু হয় দলবদ্ধ হয়রানি ও হেনস্তা।
নির্জন সেই পাহাড়ি রাস্তায় বখাটেদের সংখ্যা অনেক বেশি থাকায়, চাইলে নিজের জীবন বাঁচাতে বা গা ঢাকা দিতে একছুটে পালিয়ে যেতে পারত ওই কিশোর। কিন্তু বিপদের মুখে বন্ধুকে ফেলে যাওয়ার কথা সে ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি। চরম আতঙ্ক আর প্রতিকূলতার মধ্যেও সে মেয়েটির পাশেই অটল দাঁড়িয়ে ছিল। পরবর্তী সময়ে সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে তারা সেই অবরুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে নিজেদের মুক্ত করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার পরদিন অর্থাৎ গত ২০ সেপ্টেম্বর বখাটেদের ধারণ করা সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটনাটি ঘটলেও রোববার পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নড়েচড়ে বসে পুলিশ।
জামুইয়ের পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ দয়াল জানিয়েছেন, ভিডিওর সূত্র ধরে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোট পাঁচজনকে শনাক্ত করা গেলেও মূল অভিযুক্ত এখনো পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরাধের কালো ছায়ার মাঝেও বখাটেদের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে কিশোরীর পাশে অটল থাকা সেই কিশোরের সাহসিকতা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।

















