• শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
Headline
একই জমিতে একাধিক লাইসেন্স, ফিল্ড কানুনগো মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর অংশগ্রহণে পদ্মা আবাসিক এলাকায় গাছের চারা রোপণ পবায় উপকারভোগীদের মাঝে অটোরিকশা ও মিলিং মেশিন বিতরণ আসাম কলোনিতে নাগরিক সমস্যার খোঁজ নিলেন রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন ফেসবুকে মানহানিকর ও অশ্লীল পোস্ট: সাইবার মামলার আসামি পলাশ রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার মতিহারে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার রাজশাহীকে সবুজ নগরী গড়তে আরডিএর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ধর্মেন্দ্রের ইস্তফাতেও শেষ হয়নি স্নায়ুযুদ্ধ! সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় ‘ককরোচ’রা, চাপ বাড়াতে ফের বিক্ষোভের হুমকি রাজশাহীতে গুরুতর অসুস্থ প্রবীণ মঞ্জুর আলম, সুস্থতা কামনায় দোয়ার আহ্বান জাতীয় আদিবাসী পরিষদের দুর্গাপুর উপজেলা ত্রি- বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত, ৩১ সদস্যের কমিটি গঠন ছোটন সরদার

একই জমিতে একাধিক লাইসেন্স, ফিল্ড কানুনগো মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

sonynews / ৪৩ Time View
Update : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিম) পাকশী ভূ-সম্পত্তি বিভাগের ফিল্ড কানুনগো মো. মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রেলের কৃষিজমির লাইসেন্স প্রদান নিয়ে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, তথ্য গোপন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। পাবনার কাশীনাথপুর এলাকার বাসিন্দা মো. রেজাউল করিম দাবি করেছেন, বৈধভাবে লাইসেন্স পাওয়ার পরও একই জমি অন্যদের নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সেটি ধামাচাপা দিতে তাকে এক নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করতেও চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী নগরীর একটি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন রেজাউল করিম।

লিখিত বক্তব্যে রেজাউল করিম জানান, পাবনা জেলার কাশীনাথপুর মৌজার জে.এল. নং-১৭৩-এর ৮৪৭ নম্বর দাগের ০.৯১৫ একর রেলওয়ের কৃষিজমি চাষাবাদের জন্য তিনি আবেদন করেন। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিম) কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তার নামে বৈধভাবে লাইসেন্স ইস্যু করে।

কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, তার লাইসেন্স কার্যকর থাকা অবস্থাতেই একই জমি চারজন অন্য ব্যক্তির নামে আগের তারিখ দেখিয়ে লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। তার অভিযোগ, এ ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা ও লাইসেন্স প্রদানের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ফলে একই জমি নিয়ে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং তিনি বৈধ লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও জমির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

রেজাউল করিমের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে ফিল্ড কানুনগো মো. মনিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেননি। বরং অনিয়ম আড়াল করার উদ্দেশ্যে তাকে পাকশী ভূ-সম্পত্তি বিভাগের উচ্চমান সহকারী তাপসী সুলতানার বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে চাপ দেওয়া হয়। ভয়ভীতির মুখে তিনি সেই অভিযোগ করেছিলেন বলে উল্লেখ করে এখন দাবি করছেন, অভিযোগটি সত্য ছিল না; চাপের মুখেই তাকে এমন বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে শুধু তার লাইসেন্স নয়, পাকশী ভূ-সম্পত্তি বিভাগের লাইসেন্স ব্যবস্থাপনায় আরও নানা অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। তাই তিনি তার বৈধ লাইসেন্স পুনর্বহাল, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

একই জমির আরেক লাইসেন্সধারী আরিফুজ জামান নান্টু বলেন, “জমিটি বর্তমানে আমার বৈধ দখল ও ভোগদখলে রয়েছে। তবে আমার নামে লাইসেন্স কার্যকর থাকা সত্ত্বেও একই জমি আরও কয়েকজনের নামে লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। এতে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত লাইসেন্সধারীদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিম) পাকশী ভূ-সম্পত্তি বিভাগের ফিল্ড কানুনগো মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাকে আটবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিম) পাকশী ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “এ ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সধারীদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ী ফিল্ড কানুনগোর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

রেলওয়ের জমির লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category