বৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. আইন
  2. আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উপসম্পাদকীয়
  5. কৃষি
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম
  9. চাকরীর খবর
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. দেশের খবর
  14. নারী
  15. বরিশাল

বড়কুঠি ঘাটে আধা কেজি মাছেও ৩০ টাকা মাশুল

প্রতিবেদক
sonynews
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৬:১৮ অপরাহ্ণ

তালিকার বাইরে ইচ্ছেমতো আদায়ের অভিযোগ, প্রতিবাদে জেলেদের মানববন্ধনে বাধা-হুমকি

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নগরীর বড়কুঠি এলাকায় পদ্মা নদীর ঘাটে নির্ধারিত মাশুলের বাইরে ইচ্ছেমতো টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে পদ্মার ওপারের চর খানপুর ও চর মাজারদিয়ার দরিদ্র মৎস্যজীবীদের কাছ থেকে সামান্য পরিমাণ মাছের জন্যও অতিরিক্ত মাশুল আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় কয়েক ঘণ্টা পরিশ্রম করে আধা কেজি থেকে এক-দুই কেজি মাছ পেলেও ঘাটে নামার সময় ব্যাগ বা থলে প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।

এ নিয়ে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী শ্রমজীবী জেলেরা বড়কুঠি ঘাটে মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিলে ইজারাদারের লোকজন তাদের বাধা দেন এবং সাংবাদিকদের সামনেই হুমকি-ধমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে উপস্থিত সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

মানববন্ধনে চর খানপুরের জেলে আলিফ, আমিরুল, মোজাহার, বাক্কার, সামালসহ প্রায় ৫০ জন জেলে অংশ নেন।

জেলেদের অভিযোগ, ঘাটে মাশুল আদায়ের জন্য নিয়োজিত ইজারাদারের লোকজন সরকারি নির্ধারিত হার অনুসরণ না করে নিজেদের মতো করে টাকা আদায় করছেন। নদী থেকে আহরণ করা মাছের পরিমাণ খুবই সামান্য হলেও ব্যাগ বা থলে ধরে মাশুল নেওয়া হচ্ছে।

এক জেলে বলেন, “আধা কেজি মাছ নিয়েও ঘাটে নামলে ব্যাগ বা থলে প্রতি ৩০ টাকা দিতে হয়। কারও হাতে দুই ধরনের ছোট মাছের দুটি ব্যাগ থাকলে ৬০ টাকা দিতে হয়। নদীতে আগের মতো মাছ নেই। কয়েক ঘণ্টা নদীতে থাকার পর আধা কেজি বা এক কেজি মাছ পাওয়া যায়। সেই মাছ বিক্রি করেই সংসার চালাতে হয়।”

আরেক জেলে বলেন, “রোদ-বৃষ্টি, ঝড়-বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ ধরি। দু-এক কেজি মাছ বিক্রি করে যে টাকা পাই, তা দিয়ে সংসার চলে। সেই সামান্য টাকা থেকে যদি ব্যাগ বা থলে প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা দিতে হয়, তাহলে আমাদের জন্য সেটা খুবই কষ্টের।”

স্থানীয় জেলেদের দাবি, নদী থেকে মাছ ধরে শহরে বিক্রির ক্ষেত্রে ঘাটের নির্ধারিত মাশুলের তালিকায় কোনো আলাদা হার উল্লেখ নেই। এরপরও মাছের ব্যাগ বা থলে ধরে টাকা আদায় করা হচ্ছে।

শুধু মাছ নয়, ঘাট দিয়ে বিভিন্ন পণ্য ও কৃষিপণ্য পারাপারের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।

তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় মানুষের পারাপারের মাশুল ৩ টাকা থাকলেও নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা। গবাদিপশুর ক্ষেত্রে ৩০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা, এক বস্তার ক্ষেত্রে ৫ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা, মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ৭ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা এবং ছাগলের ক্ষেত্রে ১১ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া এক বান্ডিল টিনের জন্য ২৫ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা, স্যালো মেশিনের জন্য ৫০ টাকার পরিবর্তে ৪০০ টাকা, ৪০ লিটার ডিজেলের জন্য ৫ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকা এবং সার বস্তাপ্রতি ৫ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের ভাষ্য, ঘাটে দৃশ্যমানভাবে যে মাশুলের তালিকা টাঙানো হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবে আদায় করা টাকার কোনো মিল নেই।

অতিরিক্ত মাশুল আদায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জেলেদের মানববন্ধনেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ঘাটে মানববন্ধনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ইজারাদারের লোকজন তাদের বাধা দেন বলে দাবি করেন জেলেরা।

এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। পরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হলে উপস্থিত সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ৬ নম্বর হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য প্রমিজ আলম বলেন, “ঘাটটি চরাঞ্চলের মানুষের শহরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। সাধারণ মানুষ ও জেলেদের কাছ থেকে নির্ধারিত মাশুলের বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। জনগণের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কাউকে হুমকি বা অপমান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি বলেন, “মানুষের কাছ থেকে তালিকায় নির্ধারিত ৩ টাকার জায়গায় ১০ টাকা, ৩০ টাকার জায়গায় ৫০০ টাকা কিংবা ৫০ টাকার জায়গায় ৪০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগগুলো তদন্ত হওয়া দরকার। ইজারাদারেরও যদি কোনো দাবি বা ব্যাখ্যা থাকে, সেটি তারা কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে পারেন। কিন্তু অতিরিক্ত টাকা আদায় কিংবা ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সমাধান প্রশাসনিকভাবেই হওয়া উচিত।”

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালে মো. নুর-ঈ সাইদ বলেন, “খেয়াঘাট ইজারার বিষয়টি মূলত সিটি করপোরেশনের প্রশাসন শাখা থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। ইজারাসংক্রান্ত বিষয়গুলো তারাই মনিটরিং করে থাকে। তবে নির্ধারিত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত টোল আদায় বা অন্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে জেলেদের প্রশ্ন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই কেন নির্ধারিত তালিকার বাইরে টাকা আদায় করা হচ্ছে? আর ঘাটে যদি সরকারি অনুমোদিত মাশুলের তালিকা কার্যকর থাকে, তাহলে সেই তালিকা অমান্য করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগই বা কীভাবে তৈরি হচ্ছে?

চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের ভাষ্য, ঘাট কোনো ইজারাদারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। ইজারার মেয়াদ শেষ হলে অন্য কেউ ইজারা নিতে পারেন। ফলে ইজারাদারের আর্থিক দাবি থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানোই নিয়ম; সাধারণ মানুষের ওপর ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত মাশুল চাপানো নয়।

জেলেদের দাবি, তারা ইজারাদারের বৈধ মাশুল দিতে অস্বীকার করছেন না। তাদের আপত্তি নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখানোর বিরুদ্ধে।

তাদের ভাষ্য, পদ্মার চরাঞ্চলে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষ শ্রমজীবী। মাছ, কৃষিপণ্য কিংবা গবাদিপশু বিক্রি করে তাদের সংসার চলে। ঘাটের অতিরিক্ত মাশুল তাদের জন্য কেবল একটি বাড়তি খরচ নয়; এটি সরাসরি তাদের দৈনন্দিন আয়ের ওপর চাপ তৈরি করছে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে—বড়কুঠি ঘাটে আসলে কোন মাশুল বৈধ, আর কোনটি ইজারাদারদের নিজস্ব নির্ধারণ? সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত তালিকা কার্যকর থাকার পরও যদি তার বাইরে টাকা আদায় হয়ে থাকে, তাহলে এর দায় কার?

ঘাটের ইজারা আদায়ের প্রতিনিধি সেরাজুল ইসলাম (সেরালী) বলেন, “প্রায় ১০ বছর আগে সিটি করপোরেশন ঘাটে যে টোলের তালিকা টাঙিয়ে দিয়ে গেছিল সেই তালিকাই পুনরায় বসিয়ে দিয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমানে সবকিছুর দাম বেড়েছে এবং সিটি করপোরেশন আমাদের টোল আদায়ের বিষয়ে নতুন কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়নি। ফলে পুরোনো তালিকা নিয়ে ইজারাদার ও যাত্রীদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হচ্ছে। একজন ব্যক্তি মাছের ব্যাগ নিয়ে এলে ২০ টাকা ও যাত্রীর ১০ টাকা—মোট ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ঘাটটি অনেক টাকা দিয়ে ইজারা নেওয়া হয়েছে; বর্তমান পরিস্থিতি আগে জানা থাকলে এত টাকা দিয়ে ইজারা নিতাম না। পুরোনো তালিকা ও বর্তমান ইজারার সঙ্গে সমন্বয় করে সিটি করপোরেশন নতুন ও স্পষ্ট মাশুল নির্ধারণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে।”

সর্বশেষ - আইন

আপনার জন্য নির্বাচিত

নগদ দুই লাখ টাকার বেশি ব্যাংক থেকে তোলা যাবে না

রয়্যাল’স ক্লাবের উদ্দ্যোগে দুস্থ নারীদের মাঝে ২৭টি সেলাই মেশিন বিতরণ করলেন খন্দকার হাসান কবির

রাজশাহীতে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বলাৎকার অভিযুক্ত দিপু গ্রেপ্তার

রাজশাহীতে বাড়ির ছাদে বেদানা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা

রাজশাহীতে বাড়ির ছাদে বেদানা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা

শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামের বাসায় যাবেন তারেক রহমান

মায়ের জন্য জেলগেটে অপেক্ষা দুই শিশুর, কারাগারে দুধের সন্তানসহ শিল্পী

রাজশাহীতে জামায়াতের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ভাঙচুর

বাংলাদেশের এই গ্রামে চাইলেই চুক্তিতে বউসহ সব কিছুই ভাড়ায় পাওয়া যায়

বঙ্গবন্ধু রাজশাহী টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

কথাশিল্পী নাজিব ওয়াদুদের  জন্মদিন উপলক্ষে  আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত