• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ১১ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

রাসিক নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে নতুন মুখের সম্ভাবনা বেশি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৩ ৯:৪৯

রাসিক নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে নতুন মুখের সম্ভাবনা বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনো সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৬০ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

ইতিমধ্যেই ২০২৩ সালের সিটি কর্পোরেশনের তফশীল ঘোষণা হয়েছে। আগামী ২১ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে । গেলবারের চাইতে এবার ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারি সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে জানান বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভোটার ও স্থানীয়রা। এবারের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পরিবর্তনের হাওয়া লাগতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিচ্ছেন ভোটাররা। গেলবার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে বিজয়ী প্রার্থীর কাছে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হেরেছেন খুব অল্প ভোটের ব্যবধানে। তাই ঐসকল ওয়ার্ডে পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট তিন ধরণের ঝুঁকির কথাও বলছে ভোটাররা।

অন্যদিকে, বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে কেউবা বিজয়ী হয়েছেন কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানেও। বেশি ভোটে নির্বাচিত কাউন্সিলররা কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও তাদের মধ্যে থেকেও কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে বলেও মন্তব্য অনেকের।

এবারের নির্বাচনে বেশকিছু ওয়ার্ডে নতুন মুখের দেখাও মিলবে অনেক। নির্বাচনে যারা একদমই নতুন তাদের অনেকেই ওয়ার্ডবাসিকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের প্রচার উপকরণের মাধ্যমে। রোজার শেষার্ধে শুরু হওয়া ঐ সকল শুভেচ্ছা প্রার্থীত দোয়া সম্বলিত প্রচার উপকরণগুলো ওয়ার্ডেও রাস্তা সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে এখনো শোভা পাচ্ছে।

নিজেদেও প্রার্থীতা ও সাপোর্ট এর বিষয়টিকে আরো বোশ পাকাপুক্ত করতে কেউ কেউ রোজার মধ্যে আয়োজন করেছিলেন এলাকার মসজিদ মাদ্রাসা কিংবা ঈদগাঁ মাঠে ইফতার পার্টির। কেউবা নিয়মিতভাবেই করছেন সমাবেশ। জানান দিচ্ছে নিজেদের প্রার্থীতা সম্পর্কে। বর্তমান দায়িত্বরত বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর অন্যান্যবারের চাইতে এবারের ঈদে খুব একটা কাছে আসেনি স্থানীয়দের বলে মন্তব্য অনেকের। কেউবা ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই মোবাইল ফোন রেখেছিলেন বন্ধ। আবার কেউবা নিয়মিত আসেননি নিজ কার্যালয়েও। আবার কোন কোন ওয়ার্ডে কাউন্সিলরা ঈদ শুভেচ্ছা দেবার কথা বলে দেখাও করেননি অসংখ্য মানুষের সাথে। এমন অভিন্ন অভিযোগ এসেছে বেশ কয়েখটি ওয়ার্ড থেকে।

কোন কোন ওয়ার্ডে অভিযোগ উঠেছে, তারা নাকি হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া ভোটারদের সাথে দেখা না করে স্থানীয় উঠতি বয়সি তরুণ আর যুবকদেরকে নিজ চেম্বারে ডেকে নিয়ে দিয়েছেন মোটা অংকের ঈদ পরবি ও শুভেচ্ছা। অথচ, যেটার প্রাপ্য ছিল ঐসকল খেটে খাওয়া ও হতদরিদ্র মানুষগুলোর বলে মন্তব্য অনেকের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভোটার ও স্থানীয়রা বলেন, আমরা তো হাজার হাজার টাকা চাইনা, তবে ঈদ উপলক্ষ্যে যত সামান্য অনুদান বা দু-একটা শাড়ি লুঙ্গি দিয়ে সহোযোগিতা করলেই আমরা খুশি। ভোট দিয়ে বিজয়ী করার পরেও এমন ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা আর ওয়াদাভঙ্গের কারণে সুবিধাবঞ্চিতরা ভিড় জমিয়েছেন এবারের সম্ভাব্য অন্য প্রার্থীদের দ্বারে। আর এমন মোক্ষম সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছেন নতুনভাবে আবির্ভাব হওয়া সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা। বিগত সময়ের কাউন্সিলরদের চাইতে বেশি দায়িত্বপরায়ণ আর নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আস্বাস দিয়ে এবারের নির্বাচনে সকলের দোয়া ও ভোট প্রার্থনার কাজে নতুন প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন মধ্য রোজা থেকেই। তবে, গেলবারের বিজয়ীসহ একাধিকবার কাউন্সিলের দায়িত্ব পালন করা প্রার্থীরা কিছুটা হলেও এগিয়ে আছেন নির্বাচনে বিজয়ী হবার পথে। আবার, কোথাও বা অনেকটাই হুমকি আর চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছেন গেলবার বিজয়ী হওয়া দু-একজন কাউন্সিলর বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটার ও স্থানীয়দের। এবারের ভোটে ভোটাররা পূর্ববর্তী ইতিহাস আর ক্ষমতা পেয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করার বিষয়গুলো মাথায় রেখে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করবেন বলেও মন্তব্য করেন।
গেলবারের নির্বাচনে ১৯নং ওয়ার্ডের দায়িত্ব পাওয়া নতুন কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন হাজারের অধিক ভোট ব্যবধানে ঠেলাগাড়ি প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। সুমন পেয়েছিলেন ৮৯০৮টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৎকালিন কাউন্সিলর নূরুজ্জামান টিটো পেয়েছিলেন ৬৮৮০ ভোট। গেলবারের মতো এবারও এই ওয়ার্ডে নতুন মুখ হিসেবে যোগ হচ্ছে  আশরাফ বাবু নামের একজন যুবলীগ নেতা। এছাড়াও লোক মুখে শুনা যাচ্ছে রজব আলী বাবুর নাম। তবে রজব আলী বাবু এখনো নিজ মুখে ঘোষণা না দিলেও তলে তলে শুরু করেছেন মাঠ গুছানোর কাজ। তিনি সমাজের ভদ্র এবং শিক্ষিত তরুন ও যুবকদের কাছে নিজেকে জায়গা করে নিয়েছেন।

এদিকে, ১৪ নং ওয়ার্ডে গেলবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন আনোয়ার হোসেন আনার। তারও প্রতীক ছিল ঠেলাগাড়ি। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৎকালিন সময়ের কাউন্সিলর টুটুলকে হারিয়েছিলেন মাত্র ২১৪ ভোটের ব্যবধানে! অপরিচিত একটি মুখ প্রথমবার নির্বাচনে দাড়িয়েই বিজয়ের মুকুট পরার বিষয়টিকে অনেকেই কৌতুহলের দৃষ্টিতে দেখেছেন। কিভাবে বিজয়ী হলো সেটি নিয়ে এখনো চলে নানা কানাঘষা। এবার এই ওয়ার্ডে পুরাতন মুখের পাশাপাশি যোগ হচ্ছে আরো বেশ কয়েকটি নতুন মুখ। এছাড়াও প্রথমবার কাউন্সিলর হয়েই হঠাৎ করে অঢেল টাকা আর সম্পদের মালিকে পরিণত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানাজনের নানাকথন এখনো চলমান। নিজের ব্যবসা বাণিজ্য আর দলীয় কাজে ব্যস্ত থাকাসহ নাগরিকদের প্রতি সরকারি দায়িত্ববোধ পালনের এই ত্রিমূখী বিষয়গুলো অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছে। একজনের পক্ষে একসাথে এতোগুলো কাজ করা শুধু কঠিণই নয়; যথেষ্ট কঠিন বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। প্রথমবার প্রার্থী হয়েই বিজয়ী হবার বিষয়টি সেই তখন থেকেই ভাবনায় জর্জরীত অনেকের মনোস্থলে। যদিওবা নির্বাচন পরবর্তী সময়ের প্রথম দু-এক বছর তিনি নাকি বেশ সুনাম কুড়িয়েছিলেন। কিন্তু তবুও আগামী নির্বাচনী ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে বিজয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হবার জন্য। স্থানীয় আর ভুক্তভোগীদের পক্ষ অভিযোগ উঠছে, পেশিশক্তি প্রয়োগে মাটির ব্যবসা আর অনৈতিক পন্থায় পুকুর ভরাট নিয়েও।
এদিকে ৫নং ওয়ার্ডে ব্যাডমিন্টন প্রতীক নিয়ে তৃতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন কামরুজ্জামান কামরু। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহাতাবুল ইসলামকে তিনি পরাজিত করেছিলেন ১৫২১ ভোটে। গেলবার নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারেও রয়েছে বিজয়ের সমূহ সম্ভাবনা বলে জানান স্থানীয়রা।
২০১৮ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ত্রিশটি ওয়ার্ডের মধ্যে কাউন্সিলর পদে সবচাইতে প্রতিদ্বন্দ্বিপূর্ণ ও শ^াসরুদ্ধকর পরিবেশের মধ্যদিয়ে নির্বাচন হয়েছিল ৮নং ওয়ার্ডে। দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল। মাত্র তিনটি ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেছিলেন এসএম মাহাবুবুল হক পাভেল। বিজয়ী প্রার্থী পেয়েছিলেন এক হাজার ৪৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জানে আলম খান জনি পেয়েছিলেন এক হাজার ৪৩৩ ভোট। এই ওয়ার্ডে এবারও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে ভোটারদের পক্ষ থেকে।
সর্বশেষ ২০১৮ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট ব্যবধানে জয় লাভ করেছিলেন ১৭ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর শাহাদৎ আলী শাহু। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মনজুর হোসেনকে পরাজিত করেছিলেন ৪ হাজার ১৭৩ ভোটে। গেলবার শাহাদাৎ আলী শাহু পেয়েছিলেন ৭ হাজার ৭০ ভোট। আর তৎকালিন কাউন্সিলর মনজুর হোসেন পেয়েছিলেন ২ হাজার ৮৯৭টি ভোট। এবারও এই ওয়ার্ডে শাহুর বিপরীতে নেই তেমন কোন জোড়ালো প্রতিদ্বন্দ্বি বা প্রার্থী। তাই আবারো বিজয়ের মুকুট পড়তে পারে বর্তমান কাউন্সিলর শাহুর মাথায়। এবার বিজয়ী হলে তিনি পাঁচবার কাউন্সিলরের দায়িত্ব পাবেন বলে জানান স্থানীয়রা।
এদিকে ৩ হাজার ৭৪৬ ভোট পেয়ে ১৩ নং ওয়ার্ডে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন আব্দুল মোমিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৎকালিন কাউন্সিলর রবিউল আলম মিলু পেয়েছিলেন এক হাজার ৩৯ ভোট। মোমিনও বিজয়ী হয়েছিল বিপুল ভোট ব্যবধানে। এই ওয়ার্ডেও এবার নির্বাচন করবে বেশ কয়েকজন।
অপরদিকে, গেলবার ১৮নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন শহিদুল ইসলাম পচা। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইজুল হক ফাহিকে ৫০২ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। আগামী নির্বাচনে রাসিকের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী এই ১৮ নং ওয়ার্ডে। রোজার প্রথম সপ্তাহ থেকে অদ্যাবধি শুভেচ্ছা ও প্রার্থীতা চেয়ে দোয়া সম্বলিত বিভিন্ন ধরনের প্রচার উপকরণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে প্রায় দশজনের অধিক কাউন্সিলর প্রার্থীর সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে ১৮ নং ওয়ার্ডকে ঘিরে।

তাই যথেষ্ঠ বেগ পেতে হবে এই ওয়ার্ড থেকে রাসিক নির্বাচনে বিজয়ের মুকুট পরা বলে মন্তব্য ভোটার ও স্থানীয়দের। যুব-তরুণের লড়াই হবার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। ৩ হাজার ৮৩৪ ভোট পেয়ে গেলবার ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন আব্দুস সোবহান লিটন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রেজা উন-নবী আল মামুন পেয়েছিলেন ২ হাজার ১৬৩ ভোট। তিনিও গেলবার বিপুল ভোটে জয় লাভ করেছিলেন। এবার এই ওয়ার্ডে চার থেকে পাঁচজন প্রার্থী হবার সম্ভাবনা আছে বলে জানান স্থানীয়রা। রাসিকের ২৯ নং ওয়ার্ডে গেলবার ৩৫১ ভোটে জাহের হোসেন কে পরাজিত করে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন মাসুদ রানা শাহিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাহের হোসেন পেয়েছিলেন এক হাজার ৬৬৯টি ভোট।

সনি বাংলা ডট কম/ই আবি

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮