স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীতে একই পরিবারের দুই ভাইকে অপহরণ, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মোঃ হামিদুর রহিম পাপ্পু (৩৬)। তার মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়া খেলার পাঁচটি অ্যাপ এবং জুয়া-সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর এলাকার এমডিসি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাপ্পু রাজপাড়া থানার বহরমপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে।
পুলিশের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ অক্টোবর রাত দেড়টার দিকে লক্ষ্মীপুর এলাকার গ্রীন সিটি হাসপাতালের বিপরীতে একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে মোঃ ওমর ফারুক ও তার ভাই মোঃ মেহেদী হাসানকে পাপ্পুসহ তিনজন জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাদের পাশের মায়ের দোয়া আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষে আটকে মারধর করা হয়। এ সময় মেহেদী হাসানের দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৩৯০ টাকা নিজেদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করে অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে মেহেদী হাসানের হাতে দুটি ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়। ঘটনাটি কাউকে জানালে ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে ১২ হাজার টাকা নিয়ে একটি মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হলেও বাকি ৮ হাজার টাকা দিলে অন্য ফোনটি ফেরত দেওয়ার কথা জানায় তারা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওমর ফারুক রাজপাড়া থানায় পাপ্পুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাপ্পুকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তল্লাশি করে অনলাইন জুয়া খেলার পাঁচটি অ্যাপ পাওয়া যায়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ০১৯৭০৮২২০৮৮ নম্বরের একটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জুয়া-সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে পাপ্পুর সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়া কার্যক্রমে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পাপ্পুর বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইনে রাজপাড়া থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে।
রাজশাহী মহানগরীতে অপহরণ, ছিনতাই, অনলাইন জুয়া ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আরএমপি।


















