শুক্রবার , ৭ আগস্ট ২০২৬ | ২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. আইন
  2. আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উপসম্পাদকীয়
  5. কৃষি
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম
  9. চাকরীর খবর
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. দেশের খবর
  14. নারী
  15. বরিশাল

দুদকের অনুসন্ধানে নেসকো: আইসিটি কর্মকর্তাদের নিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব

প্রতিবেদক
sonynews
আগস্ট ৭, ২০২৬ ৫:১৬ অপরাহ্ণ

ইফতেখার আলম বিশাল: নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো)-এর ২০১৮ ও ২০১৯ সালের নিয়োগ কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে অসঙ্গতি ও ঘাটতির তথ্য সামনে এসেছে। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী জাকিউল ইসলামসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে অনুসন্ধানের জন্য চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সময়মতো জমা না দেওয়ায় নেসকোর ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে বর্তমান উপ-মহাব্যবস্থাপক (আইসিটি অপারেশন এন্ড অটোমেশন) মোঃ শামীম-আল-মামুন, উপ-মহাব্যবস্থাপক (আইসিটি ও বিলিং) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মাহমুদ, আইসিটি (ডিসি, ডিআর এন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার) ব্যবস্থাপক আবু সায়েম মোহাম্মদ সাদাত ও আইসিটি (অটোমেশন সিস্টেম) ব্যবস্থাপক রাজীব বিশ্বাসের নিয়োগসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মূল নথি অনুপস্থিত থাকার তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাবেক নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ গোলাম আহাম্মদ অতিরিক্ত দায়িত্বে নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন পদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে কেউ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আবার কেউ রাজনীতিক সুপারিশ বা ডিও লেটার নিয়ে ব্যবস্থাপক (আইসিটি) ও ব্যবস্থাপক সফটওয়্যার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ব্যবস্থাপক আইসিটির তিনটি ক্যাটাগরিতে যথাক্রমে শামীম-আল-মামুন, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মাহমুদ, আবু সায়েম মোহাম্মদ সাদাত এবং রাজীব বিশ্বাস ব্যবস্থাপক সফটওয়্যার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিদেশ সফর, টিএ-ডিএ, শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) এবং সিএসআর তহবিলের ব্যয়সহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত নথিপত্র চাওয়া হয়েছিল। এসব নথি নির্ধারিত সময়ে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি সৈয়দ গোলাম আহাম্মদের অবসর-পরবর্তী আর্থিক সুবিধা ও পেনশন-সংক্রান্ত আবেদন পর্যালোচনার সময় তার দায়িত্বকালীন বিভিন্ন কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে গঠিত কমিটির কাছে পাঠানো তথ্য-উপাত্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

নেসকোর উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন) মো. রহমত উল্লাহ-আল-ফারুক কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নিয়োগসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মূল নথিপত্রের অনুপস্থিতি ওঠে আসে।

অনুসন্ধানী আরও জানা যায়, ২০১৮ সালে ব্যবস্থাপক (আইসিটি) পদের নিয়োগ পরীক্ষায় শামীম-আল-মামুন, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মাহমুদ ও আবু সায়েম মোহাম্মদ সাদাতের আইবিএ (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়) প্রদত্ত লিখিত পরীক্ষার ফলাফল, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সিট, নিয়োগ পরীক্ষার টেবুলেশন সিট, মৌখিক পরীক্ষার হাজিরা শিটসহ নিয়োগসংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মূল নথি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এদিকে ২০১৯ সালের ব্যবস্থাপক (সফটওয়্যার) পদে রাজিব বিশ্বাসের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কর্তৃক প্রস্তুত লিখিত পরীক্ষার ফলাফল, মৌখিক পরীক্ষার নম্বরপত্র, টেবুলেশন শিট, মৌখিক পরীক্ষার হাজিরা শিট এবং নিয়োগ অনুমোদনসংক্রান্ত বোর্ড সভার কার্যবিবরণী খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগের বৈধতা ও স্বচ্ছতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এসব নথিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় একজন প্রার্থী কত নম্বর পেয়েছেন, মেধাতালিকায় তার অবস্থান কী ছিল এবং পরিচালনা পর্ষদ কীভাবে নিয়োগ অনুমোদন দিয়েছে—এসব তথ্যের ভিত্তিতেই একটি নিয়োগের বৈধতা নির্ধারিত হয়। ফলে এসব নথির মূল কপি অনুপস্থিত থাকা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, গুরুত্বপূর্ণ এসব নথি না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পরবর্তীতে একাধিক পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে উপ-মহাব্যবস্থাপক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-মহাব্যবস্থাপক (আইসিটি অপারেশন এন্ড অটোমেশন) মোঃ শামীম-আল-মামুন বলেন, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে। আমার জন্মের আগে কি হয়েছে সেটা আমি কি করে বলবো। আর আমাকে কেন একা ধরা হচ্ছে। আমার পদে তো আরো দুইজনের নিয়োগ হয়েছিল। নেসকোর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী জাকিউল ইসলামের সালা পরিচয় ব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাকুরীতে যোগদানের বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলো সব ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এদিকে নেসকোর আইসিটি (ডিসি, ডিআর এন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার) ব্যবস্থাপক আবু সায়েম মোহাম্মদ সাদাত বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো বক্তব্য দিতে পারব না। নিয়োগসংক্রান্ত নথিপত্রের অনুপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি। পরে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি

নেসকোর উপ-মহাব্যবস্থাপক (আইসিটি ও বিলিং) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, কোন কিছু জানতে চাইলে আমাদের তথ্য কর্মকর্তা আছে, তার সাথে যোগাযোগ করেন। অবৈধভাবে নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে অফিসিয়াল কাজ করতে থাকেন।

নেসকোর আইসিটি (অটোমেশন সিস্টেম) ব্যবস্থাপক রাজীব বিশ্বাস হাসতে হাসতে বলেন, বক্তব্য দেবার মত অবস্থা নাই। গুরুত্বপূর্ণ নথির অনুপস্থিত ও নিয়োগ বোর্ডসভার অনুমোদন ছাড়াই চাকরি কিভাবে হলো প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কিছুই বলার নাই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বক্তব্য দিবে।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, যে কর্মকর্তা নিজেই নেসকোর প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ, আইসিটি অপারেশন এন্ড অটোমেশন, আইসিটি ও বিলিং, আইসিটি (ডিসি, ডিআর এন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার), আইসিটি (অটোমেশন সিস্টেম) বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন, তার নিজের নিয়োগসংক্রান্ত নথি অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়া কি স্বচ্ছতার পরিচায়ক?

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, রাবি বা বুয়েট পরীক্ষা নিয়েছিল—এ তথ্য নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি অংশের ব্যাখ্যা মাত্র। কিন্তু লিখিত পরীক্ষার ফলাফল, মৌখিক পরীক্ষার নম্বরপত্র, টেবুলেশন শিট ও বোর্ড সভার কার্যবিবরণীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি কোথায়, কেন নেই এবং কীভাবে হারিয়ে গেল—সে প্রশ্নের কোনো উত্তর কোন কর্মকর্তার বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নেসকোর বিদায়ী নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ গোলাম আহাম্মদ বলেন, নিয়োগসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মূল নথি না থাকার কোনো কারণ নেই। এসব নথি অবশ্যই সংরক্ষিত থাকার কথা। যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা ইতোমধ্যে এক বা একাধিক পদোন্নতি পেয়েছেন। মূল নথি না থাকলে পদোন্নতি কীভাবে হয়েছে, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।

তার এই বক্তব্যের পর নথি সংরক্ষণ, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যদি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ মূল নথিগুলো অনুপস্থিত থাকে, তাহলে শুধু ওই নিয়োগ নয়, পরবর্তী পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, আমি মাত্র পাঁচ মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছি। নিয়োগসংক্রান্ত নথি সচিবালয়ে থাকার কথা। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে গুরুত্বপূর্ণ নথির অনুপস্থিতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে নেসকোর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী জাকিউল ইসলামসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করেছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্রও চাওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ নথির অনুপস্থিতির বিষয়টি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন গঠিত কমিটির তদন্তে এসব নথির প্রকৃত অবস্থান, অনুপস্থিতির কারণ এবং এর পেছনে কোনো গাফিলতি বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

সর্বশেষ - রাজশাহী

আপনার জন্য নির্বাচিত

ভোটকেন্দ্র দখল করলে বাতিল হবে পুরো কেন্দ্রের ভোট: সিইসি

রাজশাহীতে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী গ্রেপ্তার

সমালোচনা, অতঃপর অভিনন্দন

বাংলাদেশের বাজারে অমিল চিনি! হু হু করে বাড়ছে দাম

বাংলাদেশের বাজারে অমিল চিনি! হু হু করে বাড়ছে দাম

হারিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ফিরে পেতে লড়াই করছি : ফখরুল

হারিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ফিরে পেতে লড়াই করছি : ফখরুল

রুয়েটে ‘আমেরিকায় উচ্চশিক্ষায় সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ

রাজশাহী নগরীর বাজে কাজলায় ঘরে ঢুকে টাকা চুরি! চিনে ফেলায় যুবককে রড দিয়ে পিটিয়ে জখম

জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল আলমকে বিএমডিএ-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে পদায়ন

রাজশাহীতে অপহৃত কিশোরী উদ্ধার: অপহরণকারী মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২