• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ক্ষোভে সাধারণ শ্রমিকরা

প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ৮:০১

রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ক্ষোভে সাধারণ শ্রমিকরা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শ্রমিকরা। ঈদুল আজহার পর নির্বাচন আয়োজনের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো ভোটের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব আলী চৌধুরীসহ অধিকাংশ নেতা দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর ইউনিয়নের কার্যক্রম পরিচালনা করেন রফিকুল ইসলাম পাখি। এ সময় নির্বাচন ছাড়া দীর্ঘদিন নেতৃত্ব ধরে রাখা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের একাংশ ও সাধারণ শ্রমিকরা নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করেন।

গত ২৩ এপ্রিল ইউনিয়নের কার্যালয় নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর শিরোইল এলাকায় শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় টার্মিনাল এলাকার কয়েকটি দোকানেও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনার প্রায় ২৩ দিন পর, ১৭ মে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ২১ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। এতে রফিকুল ইসলাম পাখিকে আহ্বায়ক এবং মোমিনুল ইসলাম মোমিনকে সদস্য সচিব করা হয়। তবে সরাসরি নির্বাচনের পরিবর্তে কেন্দ্রীয়ভাবে কমিটি ঘোষণার সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের একাংশের মধ্যে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ইউনিয়ন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানান।

পরবর্তীতে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। কেন্দ্র থেকে ঘোষিত ২১ সদস্যের কমিটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালকে ইউনিয়নের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক শ্রমিক। তাদের বক্তব্য, মালিকপক্ষের একজন নেতাকে শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্বে বসানো অস্বাভাবিক এবং এতে শ্রমিকদের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ কমে যায়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে ইউনিয়নের বিতর্কিত নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও তুলেছেন তারা।

নির্বাচনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, “অতিশীঘ্রই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

অন্যদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির খান ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “শ্রমিকদের আন্দোলন ও বাস চলাচল বন্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে কেন্দ্র থেকে ২১ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় সেই কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে রাজশাহী জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালকে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি কীভাবে এ দায়িত্বে এলেন, সে বিষয়ে আমাদের জানা নেই।”

নির্বাচন কবে হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে নির্বাচন নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমাদের ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির বিষয়টিই এখন বিবেচনায় রয়েছে।”

এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, “রাজশাহী জেলা প্রশাসক শ্রম অধিদপ্তরে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রম অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালকের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে দীর্ঘদিনেও নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ ঘোষণা না হওয়ায় সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হোক। এতে সংগঠনের চলমান সংকট নিরসনের পাশাপাশি শ্রমিকদের আস্থাও ফিরে আসবে।

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮