রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর আলুপট্টি এলাকায় স্বচ্ছ টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক এক শিক্ষার্থীকে হানি ট্র্যাপে ফেলে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—রাজশাহীর শেখপাড়া এলাকার মোহাম্মদ তৌকির জাহান স্মরণ (২৯), ভাটাপাড়া এলাকার আবু রায়হান (২৪), শাহরিয়ার মনন (২৯) ও বহরমপুর এলাকার জুনাইরা ইসলাম (২২)।
রোববার গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর স্বচ্ছ টাওয়ারের ১৫/এ নম্বর ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই ভুক্তভোগী বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন। এরপর ভোররাতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বাদীর বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায়। ২৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি রাজশাহী শহরের একটি ছাত্রাবাসে থেকে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, শনিবার সকাল ৮টার দিকে ব্যক্তিগত কাজে রাজশাহী শহরে আসেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্বচ্ছ টাওয়ারের পশ্চিম পাশে একটি বিসিএস কোচিং সেন্টার থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে থাকা তিন ব্যক্তি তাঁকে গালিগালাজ করেন।
পরে এক তরুণী ঘটনাস্থলে এসে সমস্যা সমাধানের কথা বলে ওই তিন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁকে স্বচ্ছ টাওয়ারের ১৫ তলায় নিয়ে যান। ১৫/এ নম্বর ফ্ল্যাটে ঢোকার পরপরই তাঁর মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তি তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এ সময় ওই নারীকে পাশে বসিয়ে তাঁর ভিডিও ধারণ করা হয়।
একপর্যায়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে দুটি শর্ত দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হয় তাঁদের সঙ্গে থাকা নারীকে ‘কট’ দেখিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দেওয়া হবে, অথবা এক লাখ টাকা দিতে হবে। পরে মুক্তিপণের পরিমাণ কমিয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়।
এরপর ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন থেকে তাঁর বড় বোনের নম্বরে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়। তাঁকে উদ্ধারের জন্য তাঁর বোনের স্বামী কৃষি ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে শাহরিয়ার মননের পূবালী ব্যাংক, রাজশাহী শাখার অ্যাকাউন্টে ৩০ হাজার ১০ টাকা পাঠান। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকাও জোর করে নেওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
মুক্তিপণের ৪০ হাজার টাকা ব্যবসায়িক লেনদেন হিসেবে দেওয়া হয়েছে—এমন কথা ডায়েরিতে লিখিয়ে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে টাকা পাওয়ার স্ক্রিনশট নিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। আসামিরা পেছন পেছন গিয়ে তাঁকে অটোরিকশায় তুলে দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















