স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, মানুষের পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী। আখেরাতই মানব জীবনের প্রকৃত ও চূড়ান্ত মঞ্জিল। তাই দুনিয়ার জীবনের প্রতিটি কাজকে আখেরাতের সফলতার প্রস্তুতি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষের বয়স, সম্পদ, ক্ষমতা, পদমর্যাদা কিংবা খ্যাতি কোনোটিই স্থায়ী নয়। একদিন প্রত্যেক মানুষকে সবকিছু ছেড়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে এবং জীবনের প্রতিটি কাজের জবাবদিহি করতে হবে। সেদিন মানুষের পরিচয় নির্ধারিত হবে তার আমলের মাধ্যমে।
১২ সেপ্টেম্বর শনিবার মসজিদ মিশন একাডেমী রাজশাহীতে অঞ্চলের উদ্যোগে জেলা ও মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষা শিবিরে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন এবং রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সাবেক আমীর প্রফেসর ড. আবুল হাশেম।
অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, আখেরাতকে জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে বিশ্বাস করার অর্থ দুনিয়ার জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়। বরং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা, মানুষের অধিকার রক্ষা করা, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা এবং অন্যায়-অবিচার থেকে বিরত থাকাও আখেরাতের প্রস্তুতির অংশ।
তিনি দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে বলেন, দায়িত্ব কোনো ব্যক্তিগত মর্যাদা বা সম্মানের বিষয় নয়; এটি একটি আমানত। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, ন্যায়পরায়ণতা, বিনয় ও আল্লাহভীতি থাকতে হবে। মানুষের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে একদিন জবাবদিহি করতে হবে—এই অনুভূতি থেকেই প্রত্যেককে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আত্মশুদ্ধি ছাড়া আদর্শ জীবন গঠন সম্ভব নয়। ভুল হলে তওবা ও সংশোধনের মাধ্যমে ফিরে আসতে হবে। একই সঙ্গে মানুষের হক নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে। একজন মুমিনের জীবন এমন হওয়া উচিত, যার আচরণে পরিবার, সমাজ ও আশপাশের মানুষ কল্যাণ লাভ করে।
তিনি বলেন, “দুনিয়া আমাদের কর্মক্ষেত্র, আর আখেরাত হলো কর্মের ফল পাওয়ার স্থান।” তাই মানুষের প্রতিটি কথা, কাজ ও সিদ্ধান্ত যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উপযোগী হয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।
অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান সবাইকে জ্ঞানার্জন, আত্মশুদ্ধি, উত্তম চরিত্র ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, জনশক্তির মানোন্নয়ন ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা অপরিহার্য বিষয়।একটি সংগঠনের শক্তি শুধু তার জনশক্তির সংখ্যায় নয়, বরং তাদের জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের ওপর নির্ভর করে। জনশক্তির মানোন্নয়নের জন্য নিয়মিত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, আত্মমূল্যায়ন ও দায়িত্ব পালনের চর্চা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা হলো সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অন্যতম ভিত্তি। পারস্পরিক সম্মান, নিয়ম-কানুনের প্রতি আনুগত্য, সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যোগ্য ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জনশক্তিই যেকোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরও দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও কল্যাণমুখী করতে পারে।
কর্মশালায় রাজশাহী অঞ্চলের রাজশাহী জেলা ও মহানগর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরে জেলার পুরুষ ও মহিলা কর্মপরিষদ সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন।


















