স্টাফ রিপোর্টার: ২০১৫ সালে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে (রাকাব) কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি পান রাজশাহী নগরীর খোজাপুর এলাকার শাহজাহান আলী মিস্ত্রির ছেলে রাইহানুল হক রাসেল।
চাকরিতে যোগদানের কিছুদিন পর ব্যাংক থেকে বাড়ি নির্মানের জন্য ঋণ পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন তিনি। কিন্তু ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী অবশ্যই ঋণ গ্রহীতার নামে বৈধ জমি থাকতে হবে। সেই অনুযায়ী রাসেল তার বাবার থেকে কৌশল হিসেবে বাড়ি নির্মানের জন্য জমি রেজিস্ট্রি করে নেন। সেই জমি ক্রয়ের কেনার জন্য রাকাব থেকে মোটা অংকের একটি ঋণ নেন রাসেল।
এবার বাড়ি নির্মানের পালা। এর জন্য প্রয়োজন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) থেকে প্ল্যান পাশ বা নকশার। সেই কাজটিও তিনি সুকৌশলে করে ফেলেন। এরপর ২০২১ সালে গৃহনির্মাণের জন্য আরেকটি বড় ঋণ পেয়ে যান রাসেল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০১৯ সালে উক্ত জমিটির সিমানা নির্ধারণ নিয়ে রাসেলের পিতা শাহজাহান আলীসহ তিন জন বাদী হয়ে প্রতিবেশি আলী নেওয়াজ বাচ্চু ও আলতাফ আলীর বিরুদ্ধে জেলা রাজশাহী সদর সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে মামলা করেন। যার মোকাদ্দমা নং ৭১/২০১৯। মামলাটি এখনও চলমান। এমতাবস্থায় কিভাবে সেই জায়গা প্রদর্শন করে আরডিএ এর প্লান পাশ হলো কিংবা সকলের প্রশ্ন জমির সীমানা নির্ধারণ না করেই কিভাবে আরডিএ প্ল্যানপাশ দিল ? আবার মামলাকৃত জমিতে রাকাব কর্তৃপক্ষ কিভাবে ঋণ দিলো ?
এদিকে ঐ জমির উপর আরডিএ যে প্ল্যানপাশ দিয়েছিল, সেই প্ল্যানপাশ বা নকশারও তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছেমত বাড়ি নির্মান করছেন রাসেল। বিষয়টি আরডিএ অবগত হলে, নকশা ভহির্ভুত বাড়ি করায় ইমারত নির্মান আইন ১৯৫২ এর ৩খ ধারা অনুসারে গত ২ আগষ্ট ২৩ তারিখে চলমান কাজটি কেন বন্ধ করা যাবেনা মর্মে কারন দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং নকশার বাইরে নির্মান করা অংশটুকু অপসারনের নির্দেশ দিয়ে একটি নোটিশ জারি করে। যার অনুলিপি রাকাবসহ বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে খোঁজাপুর এলাকায় গেলে দেখা যায়, বাড়িটিতে নির্মান কাজ চলমান রয়েছে। অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে রাইহানুল হক রাসেল বলেন, এগুলো আরডিএ ও আমার পারিবারিক বিষয়, আপনারা মাথা গলাবেন না। এরপর বাড়ি নির্মান বন্ধের নির্দেশ নোটিশ পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং সাংবাদিকের সাথে খারাপ আচরন করেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) এজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, এগুলো কনফিডেনসিয়াল তথ্য, আপনি চাইলে দেওয়া যাবেনা। মামলাকৃত জমিতে ঋণ দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান আমরা সকল কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে ঋণ দিয়েছি। তবে আরডিএ’র একটি নোটিশ পেয়েছি। এরপর রাকাব কর্তৃপক্ষ রাসেলের সেই ঋণটি স্থগিত করে দিয়েছে।
সনি বাংলা ডট কম/ইআবি


















