ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী: রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ২০২৬ সালের নির্বাচন ঘিরে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন ও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন ইউনিয়নের সদস্য মো. মোমিনুল ইসলাম। রিটের শুনানি শেষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন আদালত। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারি করা হয়েছে। এতে আগামী ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ মূল এখতিয়ারাধীন শাখায় দায়ের করা রিট পিটিশন নম্বর ১৪৭৩৩/২০২৬-এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ অক্টোবর বিচারপতি সিকদার মাহমুদ রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. গোলাম আক্তার জাকির।
আদালতের আদেশসংক্রান্ত আইনজীবীর প্রত্যয়নপত্রে বলা হয়েছে, রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গত ২৭ আগস্ট স্মারক নম্বর ০৫.৪৩.৮১০০.০১৩.০৩.০০১.২৪.৩২৬-এর মাধ্যমে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ২০২৬ সালের নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি গঠনের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন মোমিনুল ইসলাম।
নথি অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের পর গত ৮ অক্টোবর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিলে আগামী ৩১ অক্টোবর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের বৈধতা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় নির্বাচনের প্রক্রিয়া আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আদালত ২৭ আগস্ট জারি করা কমিটি গঠনের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রুল জারি করেছেন।
এখানে উল্লেখযোগ্য, আইনজীবীর প্রত্যয়নপত্রে কমিটি গঠনের আদেশ স্থগিতের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। তবে নির্বাচনের তফসিল বাতিল কিংবা ৩১ অক্টোবরের ভোটগ্রহণের ওপর পৃথক স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে কি না, তা ওই প্রত্যয়নপত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা জানতে আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রিটে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক, শ্রম অধিদপ্তরের ট্রেড ইউনিয়ন-সংশ্লিষ্ট পরিচালক ও রেজিস্ট্রার এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও নির্বাচন কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বৈধতা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আদালত শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাব জানতে রুল জারি করেন এবং কমিটি গঠনের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।
রিটকারী মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আয়োজনের বিরুদ্ধে আমি হাইকোর্টে রিট করেছি। হাইকোর্ট এ বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন।’
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি থেকেই তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তবে রিটে উত্থাপিত অভিযোগের বিস্তারিত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
এদিকে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রফিকুল ইসলাম পাখির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলব।’
অন্যদিকে, ইউনিয়ন-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নিতে রফিকুল ইসলাম পাখি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে আপিল দায়ের করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখ ঘনিয়ে আসার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত হওয়ায় ইউনিয়নের নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আদালতের আদেশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ।


















