রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-২ অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন জুয়েলের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাইকোর্টে এ বিষয়ে রিট মামলা চলমান থাকা অবস্থায় অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট গ্রহণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নিজের বিরুদ্ধে নেওয়া অনাস্থা কার্যক্রমকে আইনবহির্ভূত দাবি করে তা অনুমোদন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান জয়নাল আবেদিন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ আইনে বর্ণিত কোনো অযোগ্যতা বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তার বিরুদ্ধে না থাকা সত্ত্বেও প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। দায়িত্বে না থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অনাস্থা প্রস্তাব আনার আইনগত সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
জয়নাল আবেদিন বলেন, অনাস্থা প্রস্তাবের আবেদনে মূলত প্যানেল চেয়ারম্যান-১-এর বিষয়ে বিষয়বস্তু উল্লেখ করা হলেও একই আবেদনে প্যানেল চেয়ারম্যান-২ হিসেবে তার দায়িত্ব প্রদানের বিরুদ্ধেও অনাস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তিনি অ্যাডভোকেট হওয়ায় সেটিকেও একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার দাবি, এসব বিষয় ইউনিয়ন পরিষদ আইনে বর্ণিত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে পড়ে না। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আইনের বিধান দেখালেও অনাস্থা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জয়নাল আবেদিন আরও বলেন, এ বিষয়ে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করেন। পরে হাইকোর্ট রুল জারি করে অনাস্থা প্রস্তাবটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চান। একই সঙ্গে অনাস্থা প্রস্তাবের ভিত্তিতে তাকে দেওয়া শোকজ নোটিশসহ পরবর্তী কার্যক্রম চার মাসের জন্য স্থগিত করা হয় বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আপিল বিভাগে যান। সেখানে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ স্থগিত করে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশ দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।
জয়নাল আবেদিনের ভাষ্য, আপিল বিভাগের আদেশের জাবেদা কপি দেখতে চাইলে তাকে একটি অ্যাডভোকেট সার্টিফিকেট দেখিয়ে মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে বলে জানানো হয়। তবে জাবেদা কপি না পাওয়া পর্যন্ত সভার কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ জানালেও তার অনুরোধ আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এরপর বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত করে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট গ্রহণ করা হয়। ভোটের ফলাফল ও রেজুলেশনও সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
জয়নাল আবেদিন বলেন, অনাস্থা প্রস্তাবের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট মামলা চলমান থাকা অবস্থায় এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা আইনসঙ্গত নয়। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় অনাস্থা প্রস্তাব অনুমোদন না করে আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ আইনের বিধান অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে আদালতের রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল আবেদীনকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


















