• রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন
Headline
এসআই রাজুর বিরুদ্ধে চাঁদা ও গাড়ি আত্মসাতের অভিযোগ ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’: আরএমপির প্রতিবাদ রাজশাহীতে পরিচয়ের জুলাইয়ের আলোচনা ও কবিতা পাঠ কোনো শিক্ষার্থী যাতে মাদকাসক্ত হয়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু ব্যক্তিগত গাড়ি আত্মসাৎ, ফেরত দিতে ৫ লাখ টাকা দাবি—এসআই রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ কাটাখালি থানার অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যাবসায়ী গ্রেফতার চন্দ্রিমা থানার অভিযানে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যাবসায়ী গ্রেফতার রাজশাহীতে বিভাগীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবেনা, গাছ বেড়ে ওঠা পর্যন্ত যত্ন নিতে হবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু আরএমপির পৃথক অভিযানে ৪ মাদক ব্যাবসায়ী গ্রেফতার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের উদ্যোগে রাজশাহীতে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’ উদ্বোধন

বছরের চার মাসই পানিতে ডুবে থাকে কমিউনিটি ক্লিনিক

sonynews / ৬১ Time View
Update : রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাওয়ার কুমারজানি গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকটি বছরের চার মাসই থাকে পানির নিচে। এ সময়ে অন্যের বাড়িতে বসে চিকিৎসাসেবা দেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গ্রামের দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার উদ্যোগে ১৯৯৮ সালে গ্রামে গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা শুরু হয়। এ উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ৫৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এরমধ্যে বাওয়ার কুমারজানি গ্রামের মো. মোসলেম উদ্দিনের দেওয়া জমিতে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়।

ক্লিনিকটির আওতাধীন প্রায় ১০ হাজার মানুুষের বসবাস। প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০-৭০ জন রোগী এই ক্লিনিক থেকে সেবা নেন। ক্লিনিকের সামনে পাকা রাস্তা রয়েছে। তবে রাস্তা থেকে প্রায় ৬ ফুট নিচু জমিতে ক্লিনিকটির অবস্থান। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই জুনের শেষের দিকে জমিতে পানি জমে ক্লিনিকের ভেতর ডুবে যায়। বর্ষার এ পানি অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে নেমে যায়। এতে বছরের প্রায় চার মাস পানির নিচে থাকে ক্লিনিকটি।

এই চার মাস গ্রামের লোকজনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি বছর একেক বাড়িতে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ক্লিনিকের ভবনটির অবস্থাও জরাজীর্ণ। ভবনটির বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা নষ্ট হয়ে গেছে।

প্রতি বছরের মতো এবারও ক্লিনিকটি পানির নিচে ডুবে থাকায় স্থানীয় রহিজ উদ্দিনের বাড়িতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ৫০-৭০ জন রোগী নানা সমস্যা নিয়ে ওই বাড়িতে ভিড় করছেন। এতে বাড়ির মালিকের দৈনন্দিন কাজের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

বাওয়ার কুমারজানি গ্রামের বাসিন্দা নাসিমা হারুন বলেন, ‘ক্লিনিকের পাশেই আমার বাড়ি। মানুষের বাড়িতে গিয়ে ভিড় করে ওষুধ নেওয়া অস্বস্তিকর। রোগীরা ঠিকমতো তাদের সমস্যার কথা বলতে পারেন না।’

স্থানীয় তারিকুল ইসলাম বলেন, বছরের চার মাসই ক্লিনিক পানির নিচে থাকে। এ সময় অন্যের বাড়িতে সেবা নিতে হয়। ওই জায়গায় মাটি ভরাট করে নতুন করে ভবন নির্মাণ জরুরি।

রহিজ উদ্দিনের পুত্রবধূ সুবর্ণা বেগম বলেন, ‘ক্লিনিকটি তলিয়ে যাওয়ায় আমাদের বাড়িতে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার বাদে সপ্তাহের প্রতিদিন বাড়িতে মানুষের ভিড় জমে। এতে আমাদের অনেক অসুবিধা হয়। কিন্তু গ্রামের মানুষের জন্য ছাড় দিতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে বাওয়ার কুমারজানি কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) জিয়াসমিন আক্তার বলেন, ক্লিনিকটি প্রতি বছর চার মাস পানির নিচে থাকে। তখন অন্যের বাড়িতে গিয়ে ওষুধ দেই। এতে আমারও যেমন অসুবিধা হয়, মানুষেরও ভোগান্তি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, রাস্তার চেয়ে একটু নিচু জমিতে ক্লিনিকটির অবস্থান। বর্ষার পানি এলেই এটি তলিয়ে যায়। তবে গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে পরামর্শ করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা চলতে পারে না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category