সনি বাংলা ডেস্ক: ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুড়াবাড়িয়া মোড় বাইতুল মাহফুজ জামে মসজিদে তিন বছর ধরে জুমার নামাজের ইমামতি ও খুতবা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে আসা খতিব মুফতি মুজিদুল ইসলামকে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মসজিদ কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ হিসেবে উল্লেখ করে জুমার আলোচনায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন খতিব মুফতি মুজিদুল ইসলাম।
খতিব মুফতি মুজিদুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার জুমার নামাজের আগে তাঁর আলোচনার বিষয় ছিল— ‘মূর্তি ও ভাস্কর্যের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং তা থেকে মুসলমানদের উত্তরণ’। এ সময় আলোচনার একপর্যায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, বক্তব্যের ওই অংশকে কেন্দ্র করেই মসজিদ কমিটির সভাপতি তাঁকে খতিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে খতিব মুফতি মুজিদুল ইসলাম প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘ তিন বছর নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দ্বীনি খেদমত করার পর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁর সব অবদান কি মূল্যহীন হয়ে গেল?
তিনি বলেন, একজন ইমামের দায়িত্ব শুধু নামাজ পড়ানো কিংবা খুতবা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে মানুষকে দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলাও তাঁর দায়িত্বের অংশ। তবে প্রতিটি বক্তব্যে শালীনতা, দায়িত্বশীলতা ও সত্যনিষ্ঠা বজায় রাখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, কোনো বক্তব্যের সঙ্গে কারও দ্বিমত থাকতেই পারে। সে ক্ষেত্রে আলোচনা, যুক্তি ও পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা সম্ভব। ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা কারও সম্মানহানি করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। তিনি কেবল নিজের দীর্ঘদিনের খেদমত, আত্মমর্যাদা ও ন্যায়সংগত আচরণের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন।
খতিব মুফতি মুজিদুল ইসলামের প্রশ্ন— একটি বক্তব্যের কারণে কি তিন বছরের দ্বীনি খেদমত ও অবদান এভাবে মূল্যহীন হয়ে যাবে?
তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সবার কাছে ন্যায়সংগত সমাধান প্রত্যাশা করেছেন।
















