বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আচরণের ভিডিও ভাইরাল, প্রজ্ঞাপনে কারণ উল্লেখ নেই
রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলীকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরের দিন সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনারের আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অদ্যই কার্যকর হবে।’ তাৎক্ষণিকভাবে আদেশ কার্যকরের নির্দেশ থাকায় ইউসুফ আলীকে কার্যত স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। রাতেই তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করে রাজশাহী ত্যাগ করেন।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, রাত ১১টার মধ্যে তাঁকে দায়িত্ব ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রজ্ঞাপন পাওয়ার পর তিনি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন। পরে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) রেজাউল আলম সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁকে তালাইমারী এলাকা অতিক্রম করতে দেখা যায় বলে সূত্র জানায়। পরে তিনি ঢাকায় পৌঁছেছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী থেকে ঢাকায় ফেরার সময় হজরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলীর আচরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছোট ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর বিদায় উপলক্ষে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি বিভাগীয় কমিশনারের দিকে হাত বাড়ালে ইউসুফ আলী এক ধাপ এগিয়ে যান। হাত মেলানোর সময় অন্য হাত দিয়ে পেছন থেকে প্রধানমন্ত্রীকে স্পর্শ করার চেষ্টা করতে দেখা যায় তাঁকে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে তাঁকে লাইনে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন।
ভিডিওটি শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বিভাগীয় কমিশনারের আচরণের সমালোচনা করছেন। বুধবার সকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী ফেসবুকে লেখেন, ‘প্রটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরতে গিয়ে ওএসডি হয়েছেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার!’
তবে ইউসুফ আলীকে প্রত্যাহারের সঙ্গে বিমানবন্দরের ওই ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিভাগীয় কমিশনারের সরকারি মোবাইল ফোনে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ফোন ধরলেও এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট রাজশাহীর তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার ড. এ এন এম বজলুর রশীদকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। একই দিন নাটোরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনকেও প্রত্যাহার করা হয়েছিল। সেদিনই রাজশাহীর নতুন বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে ইউসুফ আলীকে পদায়ন করা হয়।
এর আগে ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ১৮ আগস্ট দুই ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক দুটি এজাহার দেন। এতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আসামি করা হয়। পরদিন লালপুরের ইউএনও মো. বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়।
দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মাথায় ইউসুফ আলীর প্রত্যাহারের ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া জরুরি।


















