অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে দুই তরুণের মাঝে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে আলোচিত সেই মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশনে দেওয়া দুটি মোবাইল নম্বরই ভুয়া বলে ধারণা করছে পুলিশ।
জানা গেছে, নম্বর প্লেটের তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে। এর পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশনে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। এর একটি এক শোরুম মালিকের। কথা হলে তিনি দাবি করেন, ওই মোটরসাইকেলটি তার শোরুম থেকে বিক্রি হয়নি এবং কীভাবে তার নম্বর সেখানে গেল, তা তিনি জানেন না। অন্য একটি নম্বর দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ পাওয়া গেছে।
মুফতি মনোয়ার হোসেনের দাবি, এ বিষয়ে জানাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার চেষ্টা করলেও তিনি সংযোগ পাননি। পরে তিনি মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটসহ স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, টঙ্গী পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। রেজিস্ট্রেশনের অসংগতি ও মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় ঘটনার রহস্য আরো ঘনীভূত হচ্ছে।
এদিকে, ফেসবুকে মনোয়ারের পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর ‘জারা চৌধুরী রাত্রি’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মন্তব্য করে দাবি করা হয়, এই মেয়েটা উত্তরায় একটি বারে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে অসুস্থ হয়ে যায়। পরে তাকে হুইলচেয়ারে করে নিচে নামানো হয়। আমি ওই বারে ছিলাম। তাই বিষয়টি জানি।
তবে এই দাবি নিয়ে নেটিজেনরা সন্দেহ প্রকাশ করলে তিনি ফের জানান, এটা আজকের ঘটনা। আমি ড্রেস দেখে মেয়েটিকে চিনেছি। আমি শিওর হওয়ার পর আমার বন্ধুদের দেখালাম। ওরাও শিওর হলো যে ওই মেয়েটাই।
তবে ‘জারা চৌধুরী রাত্রি’ নামের ওই ফেসবুক আইডির দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া মোটরসাইকেল মালিকের আসল ঠিকানা ও পরিচয় নিয়ে সন্দেহ থাকায় তার নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি।
এখনও পর্যন্ত মোটরসাইকেলে থাকা দুই তরুণ ও ওই তরুণীর নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ এ বিষয়ে কাজ করছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটনের উপপুলিশ কমিশনার এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলের নম্বর দেখে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।


















