অনলাইন ডেস্ক: ‘সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিতরণব্যবস্থা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে চায়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল খাতের বিতরণব্যবস্থা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে সম্মতি দিয়েছেন। তাই আমি দেশের বিভিন্ন কোম্পানিকে বলব, আপনারা সরকারের কাছে প্রস্তাব জমা দেন। বিতরণ খাত বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেব।’ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘বিতরণব্যবস্থা বেসরকারি খাতে গেলে স্বচ্ছতা বেশি থাকে, রাষ্ট্রের দায়ও কম। আপনারা বিতরণ সিস্টেমে বিনিয়োগ করার জন্য প্রস্তুত হোন। বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা অবশ্যই প্রাইভেটে যাওয়া উচিত। পাশের দেশে বিভিন্ন সিটি বিভিন্ন কোম্পানি পরিচালনা করছে। বেসরকারি খাতে দিলে সেবার মানও বাড়বে। শুধু উৎপাদন থাকবে সরকারের হাতে।’ তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার লুটপাট করে গেছে। শুধু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৬৭ হাজার কোটি টাকা দেনা রেখে গেছে। ১৫ বছরে কোনো কূপ খনন করা হয়নি। অন্যদিকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা রেখে গেছে। এখন ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে দিতেই শেষ। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বাংলাদেশের জন্য নতুন দুশ্চিন্তা নিয়ে এসেছে।’
মন্ত্রী জানান, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। একই সঙ্গে এলএনজি আমদানির অবকাঠামোও আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে কোনো একটিতে সমস্যা দেখা দিলে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি না হয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের শিল্পে আয়ের ৩০ শতাংশ ব্যাংকের পেছনে খরচ হয়। ব্যবসায়ীরা কীভাবে টিকে আছেন বুঝতে হবে। বিগত সরকার ব্যাংক খালি করে রেখে গেছে। অনেকে ব্যাংকে টাকা রেখে নিঃস্ব হয়ে গেছে, সংসার চলছে না। লুটপাট হয়ে গেছে, সেগুলো ফেরত দিতে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী দেশটিকে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র বানাতে চাচ্ছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, হেলথ কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসী কার্ডসহ বিভিন্ন কার্ড দেওয়া হচ্ছে। যারা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, তাদের মাসে একটি ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার কম মূল্যে দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার।
তিনি বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি পলিসি ঘোষণা করেছি। সিপিডি প্রশংসা করেছে। মিনিমাম ট্যাক্সে গেছি। ক্লাস্টার বেসিসে যাব। নির্দিষ্ট এলাকায় সোলার স্থাপনের বিতরণ কোম্পানির চাহিদা কমিয়ে দেব। সোলার থেকে বিদ্যুৎ পাবে গ্রাহকরা। হাসিনার দায়মুক্তি আইন বাতিল করেছি, সেপ্টেম্বরের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হবে। চীনা কোম্পানি সোলারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সবার সহযোগিতা পেলে ১০ হাজার মেগাওয়াট করতে পারব বলে মনে করি।’
অনুষ্ঠানে মেট্রোপলিটন চেম্বারের সাবেক সভাপতি মাহবুবর রহমান বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। অথচ সরকার বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি চার্জ দিচ্ছে। এটা বন্ধ করুন।’ মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, ২০১৯ সালে ডিমান্ড নোটের ১৪০ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন। সংযোগের জন্য জমি কেনাসহ বিভিন্ন খাতে ৭০০ কোটি টাকা খরচ করেও গ্যাস সংযোগ পাননি। বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া আছে। এই ঋণ শোধ করতে না পারলে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। বক্তব্য দেন, বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, ট্রান্সকম গ্রুপের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম রিজওয়ান খান, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অন্তর্বর্তীকালীন) মো. এনামুল হক, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ প্রমুখ।
যুগান্তর


















