অনলাইন ডেস্ক’ কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মণের স্ত্রী শ্যামলী রানী বর্মণ পুলিশের সাপাহার সার্কেল এএসপি।
তাঁর স্বামী রাজশাহীগামী ‘হিমাচল’ বাসে স্ট্যান্ডিং টিকেট কেটে উঠেন। উঠে সিট ফাঁকা থাকায় একটা সিটে বসেন।
পথে বাসটি দিঘার মোড়ে পৌঁছালে ওই স্টপেজ থেকে রাজশাহীগামী যাত্রীর যেই সিটে তিনি বসেছিলেন, সেই সিটের যাত্রী এলে সেটি থেকে তাকে উঠে যেতে অনুরোধ করেন সুপারভাইজার।
তখন নিজেকে সার্কেল এসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে সুপারভাইজারকে ধমকাতে শুরু করেন জয়ন্ত। একপর্যায়ে সৃষ্ট তর্ক বাড়তে থাকলে সিট ছেড়ে দিয়ে বাসচালক বাদলের কাছে এগিয়ে যান তিনি।
চালকের সঙ্গেও বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর তার গন্তব্য ধানসুরায় নেমে যাওয়ার আগে চালক ও সুপারভাইজারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান।
জয়ন্ত গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার পর সাপাহারের টিকিট মাস্টারকে অফিসে ডেকে নেন শ্যামলী রানী বর্মণ। টিকিট মাস্টারের ফোন থেকে বাসচালক বাদলকে কল করেন তিনি।
চালক ও সুপারভাইজারকে হুমকি ধামকি দেন। রাত ১০টায় হিমাচল পরিবহনের ওই বাস পুনরায় সাপাহারে ফিরলে চালককে বাসস্ট্যান্ড থেকে অফিসে ডেকে নেন শ্যামলী রানী বর্মণ।
সেখানে পৌঁছানোর পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বাসচালক বাদলের পেটে প্রথমেই সজোরে লাথি দেন শ্যামলী।
সাথে বেধড়ক পেটাতে যোগ দেন তার স্বামী জয়ন্ত বর্মণও। এরপর শ্যামলী রানী বর্মণের নির্দেশে কনস্টেবল আনন্দ বর্মণ পাইপ দিয়ে চালককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
জানা যায়, পরে আহত অবস্থায় বাদল জ্ঞান হারালে সাপাহারের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া যাবে না এই শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সেখান থেকে পরের দিন সোমবার দুপুরে রাজশাহীতে ফিরে রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসা নেন বাসচালক বাদল।
বাসচালকের ভাষ্যে, ‘‘এএসপি ম্যাডাম ও ওনার স্বামী আমাকে অফিসে ডেকে নিয়ে শরীরের গোপন জায়গাগুলোতে মেরেছে। উনি বডিগার্ডকে বললেন মাইরা হাত পা ভেঙে দে। তারপর বডিগার্ড আমাকে এসএস পাইপ দিয়ে উচ্ছেমতো পিটিয়েছে। আমি এর বিচার চাই। শ্রমিক বলে আমরা কি মানুষ না?’
এই খবর এসেছে জাগোনিউজ-এ। শ্রমিক বলে এদেশে পুলিশ কর্তা শ্যামলী রাণীদের কাছে তাঁরা যে মানুষ না, এটা সম্ভবত বাদল’রা ভুলে গেছে!
নওগাঁর পুলিশ সুপার এ ঘটনাকে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলেছেন। অথচ ভিক্টিমের ভাষ্য আর প্রেসক্রিপশনে ঠিকই পুলিশ কেইস বলে সিল দিয়েছে ডাক্তার।





