• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

নির্বাহী প্রকৌশলীর অপসারণের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

প্রকাশ: বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১২:১৫

নির্বাহী প্রকৌশলীর অপসারণের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদের অপসারণের দাবিতে স্থানীয় ঠিকাদার ও ভুক্তভোগীরা আজ বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে স্মারকলিপি দেন।
​মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রকৌশলী হারুন রাজশাহীতে যোগদানের পর থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের পছন্দের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে একের পর এক কাজ দিয়ে আসছেন। তিনি টেন্ডার কার্যাদেশের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মকানুন লঙ্ঘন করছেন এবং সরকার নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন না। অভিযোগ রয়েছে যে তিনি মাসের পর মাস ঠিকাদারদের বিল আটকে রাখেন, তবে শুধুমাত্র আওয়ামীপন্থী ঠিকাদারদের ক্ষেত্রে বিল প্রদানে কোনো বিলম্ব করেন না।
​বক্তারা আরও অভিযোগ করেন যে, হারুন-অর-রশিদ দাপ্তরিক কাজ নিজ বাড়িতে বসে সম্পন্ন করেন এবং রাতের বেলা অফিসের কর্মীদের (পুরুষ-মহিলা উভয়কেই) নিজ বাসভবনে ডেকে নিয়ে ফাইলপত্রে স্বাক্ষর করেন। এমনকি তিনি অফিসে নিজের পোষা একটি বিদেশি কুকুরও নিয়ে আসেন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামীপন্থী ঠিকাদার ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার অভিযোগও উঠেছে। সর্বশেষ, তিনি ১৮ কোটি এবং ২৬ কোটি টাকার দুটি বড় কাজ গোপালগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনকে দিয়েছেন।
​বক্তারা আরও বলেন, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যদি পূর্ববর্তী কাজের কার্যাদেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারে, তাহলে তাদের নতুন কাজ দেওয়া যাবে না। অথচ ঠিকাদার মনিরের প্রতিষ্ঠান গোদাগাড়িতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১৮ কোটি টাকার কাজ ২০২৫ সালেও শেষ করতে পারেনি। তা সত্ত্বেও প্রকৌশলী হারুন সেই একই প্রতিষ্ঠানকে ২৬ কোটি টাকার আরেকটি নতুন কাজ দিয়েছেন, যা স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
​চলমান কাজে ব্যবহৃত পাইপের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বক্তারা অভিযোগ করেন, কার্যাদেশ অনুযায়ী ‘আকিজ গ্রুপে’র পাইপ ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে নিম্নমানের নকল পাইপ ব্যবহার করা হচ্ছে, যেগুলোতে আকিজের সিল মারা আছে। তারা পাইপগুলো রুয়েটে (RUET) পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন।
​অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, প্রকৌশলী হারুনের একজন আত্মীয়ের প্লাস্টিক কারখানা থেকে নকল পাইপ সরবরাহ করা এবং বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজে নগরীর ভাটাপাড়া এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা ইকতার হোসেনের ছেলে, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জনি ও ডলারকে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া। বক্তারা জানান, হারুনের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী কর্মস্থলেও নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল এবং তিনি একাধিকবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন। তবে মন্ত্রণালয়ে আত্মীয় থাকার কারণে অসংখ্য অভিযোগ সত্ত্বেও তিনি বহাল তবিয়তে আছেন। এই ধরনের কর্মকর্তার অপসারণ চেয়ে ভুক্তভোগীরা বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে সম্মিলিতভাবে দাবি জানিয়েছেন।
​এ বিষয়ে জানতে প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদের দপ্তরে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, পরিচিত ব্যক্তি ছাড়া তিনি কারো ফোন ধরেন না।

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮