নিজস্ব প্রতিবেদক: আমার পুলিশ আমার দেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণিল র্যালি, আলোচনা সভা, বেলুন-ফেস্টুন উড্ডয়ন, কবুতর অবমুক্তকরণসহ নানা আয়োজনে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) গৌরব ও সাফল্যের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে।
সোমবার (১ জুলাই) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে আরএমপি সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান, প্রিন্সিপাল, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা, রাজশাহী। আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ এনডিসি, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, পিপিএম (বার), পিএইচডি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ মু. যহুর আলী, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম, র্যাব-৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাসুদ পারভেজ প্রমুখ।
পুলিশ কমিশনার তাঁর বক্তব্যে বলেন, “১৯৯২ সালের ১ জুলাই মাত্র ৪টি থানা ও ১১৩৫ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে আরএমপি। বর্তমানে এটি ১২টি থানা ও ৩৪১৪ জন সদস্যের এক বিশাল পরিবারে পরিণত হয়েছে। এটি আজ নগরবাসীর আস্থার প্রতীক।”
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্ট পরবর্তী ঘটনায় যারা প্রকৃত অপরাধী, তাদের শনাক্তে নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
পুলিশ কমিশনার জুলাই-আগস্টে আন্দোলনের সময় নিহতদের স্মরণ করে বলেন, “তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি, আর আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। সেই সময় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো সংস্কার করে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। হারানো অস্ত্র-গুলি উদ্ধারে অভিযান চলছে।”
প্রিন্সিপাল ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “পুলিশ বাহিনী অনেক ভালো কাজ করছে। তবে ইতিহাসের কিছু ঘটনায় (যেমন ৫ আগস্ট) কিছু কর্মকর্তার রাজনৈতিক প্রভাবিত সিদ্ধান্ত পুরো বাহিনীর বদনাম ডেকে আনে। ব্যক্তিগত ব্যর্থতায় প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা উচিত নয়।”
তিনি আরও বলেন, “পুলিশ কখনোই পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হতে পারে না, তবে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করাই হবে বড় অর্জন।”
আলোচনা সভায় আরও বক্তারা বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অপরিহার্য। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে জনগণ পুলিশকে বন্ধু ভাবতে পারে।
আয়োজনে আরএমপি, রাজশাহী রেঞ্জ ও জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। র্যালি ও আলোচনা সভা শেষে কেক কেটে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।




