রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ব্যক্তির বক্তব্য ও আচরণ শুধু তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়ের প্রতিফলন নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিরও অংশ। তাই দায়িত্বশীল পদে থেকে দায়িত্বশীল ভাষা ও আচরণ প্রদর্শন করা নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক—উভয় দিক থেকেই অপরিহার্য।
সম্প্রতি রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক বলে অনেকেই মনে করছেন। অভিযোগটি সত্য হলে তা যেমন স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী, তেমনি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের সংস্কৃতিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে দ্রুত, সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সাংবাদিক মহলে সৃষ্ট ক্ষোভ ও উদ্বেগ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করাও জরুরি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে হুমকিমূলক বা ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক বক্তব্য কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মতবিরোধ থাকতে পারে, সংবাদে ভুলও হতে পারে; কিন্তু তার প্রতিকার হওয়া উচিত আইনসম্মত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায়, কখনোই হুমকি বা শক্তির ভাষায় নয়।
অন্যদিকে সাংবাদিকদেরও আত্মসমালোচনার জায়গা রয়েছে। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাই, বস্তুনিষ্ঠতা, ভারসাম্য এবং পেশাগত নৈতিকতা কঠোরভাবে অনুসরণ করা প্রতিটি সাংবাদিকের দায়িত্ব। কারণ একটি দায়িত্বশীল সংবাদ যেমন সমাজকে আলোকিত করে, তেমনি একটি দায়িত্বহীন সংবাদ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমাজ—সব ক্ষেত্রেই অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় হোক কিংবা গণমাধ্যম—কোনোটিই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রশাসন কিংবা সাংবাদিক—সবারই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। গণতান্ত্রিক সমাজে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন মৌলিক অধিকার, তেমনি সেই স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতাও অবিচ্ছেদ্য।
আমরা এমন একটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে চাই, যেখানে যুক্তি থাকবে, মতের ভিন্নতা থাকবে, সমালোচনা থাকবে—কিন্তু থাকবে না হুমকির ভাষা, অসহিষ্ণুতা বা পেশাগত অবমাননা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, রাকসু, যে কোনো ছাত্র সংগঠন বা তাদের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি, সাংবাদিক—সবারই দায়িত্বশীল বক্তব্য ও আচরণ কাম্য। কারণ সম্মান দিয়ে সম্মান অর্জন করা যায়; ভয় দেখিয়ে নয়।