রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর দামকুড়া থানায় দায়ের করা প্রতারণা, চাঁদা দাবি ও মারধরের মামলায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। মামলার বাদীর অভিযোগ, সৌদি আরবপ্রবাসী এক ব্যক্তিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করা হয়। পরে বিষয়টি জানতে গিয়ে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের হাতে অবরুদ্ধ হয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির পাশাপাশি মারধরের শিকার হন তারা।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মামলার বাদী মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা মো. আলী হোসাইন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তার বড় ভাই মো. আলী নুর দীর্ঘ আট বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। প্রায় চার মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে রাজশাহীর দামকুড়া থানার জোতরাবন গ্রামের বাসিন্দা প্রিয়া খাতুনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
বাদীর ভাষ্য, প্রিয়া খাতুন তার পূর্বের বিয়ে ও একটি সন্তান থাকার তথ্য গোপন রেখে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে গত ১৭ জুলাই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তারা প্রিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একই কৌশলে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, বাড়ি থেকে ফেরার সময় প্রিয়া খাতুন, তার বাবা শুকুর আলী বাবু, মা কাজল রেখাসহ কয়েকজন তাদের আটকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পরে আলী হোসাইন কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে দামকুড়া থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ১৭ জুলাই রাতে দামকুড়া থানায় প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত প্রিয়া খাতুনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাদী আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত নারীর সাবেক স্বামী আবুল কালাম আজাদ রিংকুর বিরুদ্ধে যৌতুক, হত্যাচেষ্টা ও মারধরসহ প্রায় ১৯টি মামলা রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তের পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি এবং এক সরকারি কর্মকর্তা দাবি করেন, তারাও বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের হয়রানি ও অর্থ আদায়ের শিকার হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল আলম বলেন, “প্রবাসীকে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।”


















