Thursday , 5 November 2026 |
  1. আইন
  2. আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উপসম্পাদকীয়
  5. কৃষি
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম
  9. চাকরীর খবর
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. দেশের খবর
  14. নারী
  15. বরিশাল

নেসকোর নিয়োগ বিতর্কে দায় এড়াচ্ছেন এমডি

প্রতিবেদক
sonynews
November 5, 2026 11:03 am

ইফতেখার আলম বিশাল: নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এবার দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মশিউর রহমান। নিয়োগ পরীক্ষায় ওঠা অনিয়মের অভিযোগ, পাঁচটি পদের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত এবং তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানাননি। কখনো তদন্ত কমিটি হয়েছে কি না, তা জানেন না বলে জানিয়েছেন; আবার কখনো বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। আবার বলছেন সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে!

নেসকোর চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ ওঠার পর পাঁচটি পদের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র পর্যালোচনার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, তদন্তের অগ্রগতি কিংবা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনো পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান প্রথমে বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না। অথচ পদাধিকারবলে তিনি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। পরে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বোর্ড সভায় আলোচনা হয়েছে এবং সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে কোনো তদন্ত হবে কি না কিংবা লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র কীভাবে যাচাই করা হবে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেননি তিনি। তাঁর বক্তব্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে দায়িত্বশীল অবস্থানের বদলে বোর্ড ও নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরতার বিষয়টি সামনে এসেছে।

নেসকোর এই নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত গত ২ অক্টোবর রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সাহায্যকারী (গ্রেড-১৫) পদে ২৬ জন নিয়োগের কথা থাকলেও পরবর্তী সময়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই পদসংখ্যা বাড়িয়ে ৬৫ করা হয়। এ ছাড়া পরীক্ষার আগের রাতে রাজশাহীর মাস্টারপাড়ায় নেসকোর রেস্টহাউসে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বৈঠক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নিয়োগ কমিটিতে নেসকোর নিজস্ব প্রধান প্রকৌশলীকে বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। পরে পাঁচটি পদের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

নেসকোর নির্বাহী পরিচালক আফাজ উদ্দিন জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখতে চেয়েছেন। এ কারণে মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে মহাব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, সাহায্যকারী পদে জনবল সংকটের কারণে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে পদসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। নিয়োগ কমিটিতে প্রধান প্রকৌশলীকে বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি করার বিষয়টিও বোর্ডের সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেন তিনি।

তবে শুধু উত্তরপত্র পর্যালোচনা করলেই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা সব প্রশ্নের নিষ্পত্তি হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ অভিযোগগুলো কেবল পরীক্ষার ফলাফলকেন্দ্রিক নয়; পদসংখ্যা বৃদ্ধি, নিয়োগ কমিটির গঠন এবং পরীক্ষার আগের রাতের বৈঠকের বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত। ফলে প্রতিটি অভিযোগের পৃথক ও নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিয়োগ নিয়ে আগের বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন অভিযোগ ওঠায় নেসকোর নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

সর্বশেষ - আইন