বৃহস্পতিবার , ২৭ আগস্ট ২০২৬ | ১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. আইন
  2. আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. উপসম্পাদকীয়
  5. কৃষি
  6. খুলনা
  7. খেলা
  8. চট্টগ্রাম
  9. চাকরীর খবর
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. দেশের খবর
  14. নারী
  15. বরিশাল

“মাদকের গডফাদারের সঙ্গে সাংবাদিকের বৈঠক, কী ছিল আলোচনার বিষয়?”

প্রতিবেদক
sonynews
আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর গোদাগাড়ীর আলোচিত মাদক কারবারি সেতাবুর রহমান বাবু। ২০১৭ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ থেকে তৈরি করা রাজশাহীর প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। পরবর্তী সময়ে হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার কারণে মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদ থেকেও তিনি বরখাস্ত হন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা ছাড়াও কৃষকদল নেতা হত্যার মামলা রয়েছে।

এই সেতাবুর রহমান বাবুর সঙ্গে রাজশাহীর একজন সাংবাদিকের একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নগরের একটি কেএফসি রেস্তোরাঁয় তোলা ওই ছবিতে সাংবাদিক কাজী সাহেদ ও বাবুকে পাশাপাশি বসে কথোপকথনে দেখা যায়। ছবিটি নিয়ে সাংবাদিকতার পেশাগত নিরপেক্ষতা, অপরাধী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সাংবাদিকদের যোগাযোগ এবং সেই যোগাযোগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে শুধু কারও সঙ্গে বসে কথা বলা বা ছবি তোলা কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। ছবিটি কেন তোলা হয়েছিল, তাঁদের সাক্ষাতের উদ্দেশ্য কী ছিল কিংবা সেখানে কোনো সংবাদগত বা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে ছবির ভিত্তিতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। প্রশ্নটি মূলত একজন সাংবাদিকের পেশাগত অবস্থান ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ থেকে ২০১৭ সালে করা ‘রাজশাহীর প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীদের’ তালিকায় ৯ নম্বরে ছিল সেতাবুর রহমান বাবুর নাম। ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাঁর নামসহ রাজশাহীর মাদক কারবারিদের তালিকা ও তাঁদের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদনে তৎকালীন রাজশাহী-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর নামও মাদক কারবারিদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
ওই সময়ের তথ্য অনুযায়ী, বাবুর বয়স ছিল ২৭ বছর এবং তাঁর বাবা আতাউর রহমানকে দিনমজুর হিসেবে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, বাবু একসময় পাওয়ার টিলার চালাতেন। পরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ ওঠে এবং তিনি মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিকভাবেও বাবুর পরিচয় ছিল আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ। তাঁকে যুবলীগ নেতা এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহচোর ছিলো। ফলে তাঁর পরিচয় শুধু একজন ইউপি সদস্য বা মাদক মামলার আসামি হিসেবে সীমাবদ্ধ ছিল না, স্থানীয় রাজনীতিতেও তাঁর সক্রিয় অবস্থানের তথ্য বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে।

২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গোদাগাড়ীর মাটিকাটা ইউনিয়নের উজানপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সেতাবুর রহমান বাবুকে আটক করা হয়। মামলার নথি ও পরবর্তী সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তল্লাশির সময় তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের অভিযোগ রয়েছে। একই ঘটনায় তাঁর সহযোগী হিসেবে আলমগীর হোসেন ও বাড়ির মালিক আব্দুল্লাহকেও আটক করা হয়।

পরে এ ঘটনায় করা মাদক মামলায় বাবুর জামিন আবেদন আদালতে নামঞ্জুর হয়। আদালতের আদেশসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাঁর দেহ তল্লাশি করে প্যান্টের পকেট থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ মামলার নথিতে রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর কারাগারে থাকায় বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। এরপর মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদ থেকে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের সচিবও পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সেতাবুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে শুধু মাদক মামলা নয়, হত্যা মামলাও রয়েছে। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন মাটিকাটা এলাকায় হামলার ঘটনায় কৃষকদল নেতা নজরুল ইসলাম নিহত হন। ঘটনার প্রায় ছয় বছর পর ২০২৪ সালে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে বাবুকে ওই মামলায় আসামি করা হয় এবং পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গোদাগাড়ীর মাটিকাটা এলাকায় জিয়া পরিষদের একটি কার্যালয় দখলের অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে গোদাগাড়ীর মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে শুধু মাদক উদ্ধারের অভিযান নয়, তাঁদের অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানেও জোর দেওয়া হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গোদাগাড়ীর ১৮৪ জন হেরোইন সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারীর একটি তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে দুজনের সম্পদ ক্রোকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আরও ২০ জনের সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। সম্পদের বৈধ উৎস না থাকলে এবং মাদক কারবারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেলে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, সম্পদের তথ্য যাচাইয়ে ২০ থেকে ২২টি সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হচ্ছে। একে একে তালিকাভুক্তদের সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
এই প্রেক্ষাপটেই তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি ও সাবেক ইউপি সদস্য সেতাবুর রহমান বাবুর সঙ্গে সাংবাদিক কাজী সাহেদের প্রকাশ্য আলাপচারিতার ছবি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কাজী সায়েদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও রাজশাহীর সাংবাদিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগপন্থী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। তিনি রাজশাহী সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগপন্থী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে কাজী সায়েদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এমনকি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাকে সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সফরে নিয়ে গিয়েছিলেন বলেও সাংবাদিক মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কাজী সায়েদের বক্তব্য জানা যায়নি।

অন্যদিকে, সেতাবুর রহমান বাবু আওয়ামী লীগ আমলে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁর পরিচয় উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের মার্চে গোদাগাড়ীতে জামায়াতের একটি ইফতার মাহফিলের মঞ্চেও তাঁকে দেখা যায়, যা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হয়।

ফলে একজন আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকের সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি হিসেবে আলোচিত একজন ব্যক্তির এমন প্রকাশ্য সাক্ষাৎ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা মূলত নির্ভর করে তথ্যের পাশাপাশি সাংবাদিকের স্বচ্ছতা, স্বাধীনতা ও স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে চলার ওপর। তাই ছবিটি কোনো অপরাধের প্রমাণ না হলেও, এর পেশাগত প্রেক্ষাপট পরিষ্কার হওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে সাংবাদিক কাজী সায়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তিনি ফোন ব্যাক করে বলেন, “আমি সাংবাদিক হিসেবে যেকোনো ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার জন্য রেস্টুরেন্টে বসতেই পারি। তাই বলে ওই ব্যক্তির সঙ্গে আমার সখ্যতা আছে—এমনটি নয়।”

সেতাবুর রহমান বাবুকে মাদক কারবারি হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে কাজী সায়েদ বলেন, “বাবু যদি লিস্টেড মাদক কারবারি হয়ে থাকে, তাহলে সে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে কেন? প্রশাসনের লোকজন কী করছে? তাকে গ্রেপ্তার করছে না কেন?”

পরিবার নিয়ে একজন কথিত অপরাধীর সঙ্গে রেস্টুরেন্টে বসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বাবু অপরাধী—কে বলেছে? সে তো আমার আত্মীয়ও হতে পারে।”

সর্বশেষ - রাজশাহী

আপনার জন্য নির্বাচিত

৩৬ জুলাই শহীদদের স্মরণে চন্দ্রিমা থানা যুবদলের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

আ.লীগ নেতাদের ভারতে আশ্রয় নিয়ে মমতার বিস্ফোরক মন্তব্য

Yellow Classic Car Looks Great.

Yellow Classic Car Looks Great.

রাজশাহীর মোহনপুরে জামায়াত কর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ বিবৃতি

পুলিশের সামনেই টেন্ডার বাক্স ছিনতাই: যুবদলের দুই নেতা শোকজ, ২৪ ঘণ্টার ব্যাখা চাইল নগর কমিটি

লেজার রশ্মিতে চার্জ হবে স্মার্টফোন

রাজশাহীতে নারী মাদক কারবারি সহ গ্রেপ্তার ২

ধুনটে অভিভাবকশূন্য ১১ সরকারি দপ্তর, স্থবির কার্যক্রম

তারুণ্য ও ক্রীড়ার সমন্বয়ে রাজশাহীতে কোকো ক্রীড়া পরিষদের নতুন যাত্রা

সংসদ নির্বাচনের ব্যয় দাঁড়াচ্ছে সোয়া ২ হাজার কোটি টাকা