অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অশোভন আচরণ ও উসকানিমূলক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষাবান্ধব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের মানসিক চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক সিয়াম বিন আইয়ুব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আগে একইদিন বেলা ১টার দিকে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন তালুকদারের টানানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন রাকসু জিএস আম্মার।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং প্রতিবাদে আম্মারের মানসিক চিকিৎসার দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
এঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার বেলা ১টায় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক কালে ক্যাম্পাসে সংঘটিত বিভিন্ন অশোভন আচরণ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসের শিক্ষাবান্ধব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় এবং সংশ্লিষ্ট রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির মূল্যায়ন ও মনোসামাজিক সহায়তার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে।
কর্মসূচিতে প্রত্যেক হল ও অনুষদের নেতা-কর্মীকে অংশগ্রহণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ও সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সোমবার সকালে কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “শুরু থেকেই সে (আম্মার) উন্মাদের মতোই আচরণ করছে। সে শিক্ষকদের হেনস্তা করার মধ্যদিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীর যে সম্পর্ক সেটিও নষ্ট করেছে।
“গতকালের ঘটনার পর তাকে কোনোভাবেই সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ বলা যায়না। তাই আমরা তার মানসিক চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাবো।”
তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে টানানো ওই ব্যানার অপসারণের আগে রোববার বেলা ১১টার দিকে নিজের ফেইসবুক পোস্টে আম্মার ব্যানারটি বেলা ২টার মধ্যে খুলে নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন।
পরে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ভিডিও শেয়ার করে তিনি লেখেন, “দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ২টার মধ্যে ব্যানার অপসারণ করতে আহবান জানিয়েছিলাম, উনি অপসারণ করেননি। তাই শিক্ষার্থী হিসেবে নিজে ছিড়ে দিলাম।
“ক্যাম্পাসে দলীয় ব্যানারে রাজনীতির যতোগুলো উপসর্গ যখনই পাবো শিক্ষকদের তখনই বিরোধিতা করবো।”
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন তালুকদার বলেন, “তার শক্তি আছে বলেই ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে। এর চেয়ে বর্বরোচিত ঘটনা আর কী হতে পারে।
তারেক রহমান একজন দেশবরেণ্য নেতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। তাকে শুভেচ্ছা জানানোয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কী ক্ষতি হয়েছে যে, পোস্টার খুলে ফেলতে হবে? আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”





