• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

রাজশাহীতে ডেভেলপারের ব্যবসার নামে প্রতারণার ফাঁদ-

প্রকাশ: সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ৩:২৭

রাজশাহীতে ডেভেলপারের ব্যবসার নামে প্রতারণার ফাঁদ-

স্টাফ রিপোর্টার: শুন্য থেকে অল্প সময়ে প্রতারণার মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক বনে যাওয়া রাজশাহীর গ্রিন প্লাজা রিয়েল অ্যাস্টেট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোস্তাফিজুর রহমানের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতারক মোস্তাফিজুর রহমান তার পালিত বাবার টাকা প্রতারণা করে নেয়ার পর শুরু হয় তার প্রতারণার কার্যক্রম। এরপর ডেভেলপার ব্যবসার নাম দিয়ে একের পর এক মানুষের সাথে প্রতারণা করেছেন এই মোস্তাফিজুর রহমান। একটি ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি, মোটা অংকের টাকা নেয়ার পরও ফ্ল্যাট রেজিষ্ট্রি করে দেয়ার নামে হয়রানি, ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য জমি নিয়ে উল্টো জমির মালিককে মামলা দিয়ে জেল খাটানোসহ একের অধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমন কি তিনি প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তারও হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত গ্রিন প্লাজা রিয়েল অ্যাস্টেট কোম্পানির অধিনে মোস্তাফিজের ছয়টি প্রকল্প রয়েছে। এরমধ্যে আগের পাঁচটি। চলতি মাসের ১ ফেব্রুয়ারীতে একটি প্রকল্প শুরু করেছেন তিনি। ৫টি প্রকল্পের মধ্যে অধিকাংশই আলোর মুখ দেখেনি। এমন কি যে দুএকটি ভবন নির্মাণ হয়েছে তারমধ্যে একটি প্রকল্প নেই যে ফ্ল্যাট কিনে ক্রেতারা মোস্তাফিজের প্রতারণার শিকার হননি। অধিক দাম দিয়ে ফ্ল্যাট কেনার পরও ক্রেতাদের তিনি ঠিকমত ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেননি। এ নিয়ে রাজশাহী চেম্বার, রাসিকের সাবেক মেয়র, রিয়েল এস্টেট এন্ড ডেভেলপার্স এসোসিয়েশনে অভিযোগের পাহাড় জমা পড়ে মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে। রীতিমত মোস্তাফিজকে নিয়ে রেডা, চেম্বার, রাসিক মেয়র বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যান। প্রতারণার মাধ্যমে তার ফ্ল্যাট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া মোস্তাফিজের কিছু দুর্নীতির তথ্য তুলে ধারা হলো।

গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা এজাজুল হক। তিনি মোস্তাফিজের কাছে ১২ লাখ টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কেনেন। কিন্তু ফ্লাটটি মোস্তাফিজ বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো এজাজুলকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কাগজপত্র জোর করে কেড়ে নেন। পরে তিনি বোয়ালিয়া থানায় মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা করেন। বর্তমান মামলাটি চলমান রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক নারীর কাছ থেকে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে ৬৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন মোস্তাফিজ। এই ফ্ল্যাট দিতে গড়িমশি করলে ওই নারী বোয়ালিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ফ্ল্যাট ক্রেতা নারীর অভিযোগ, নগরীর ঘোড়ামারা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের ফ্ল্যাট মোস্তাফিজ ৬৪ লাখ টাকা দাম ধরে তার কাছে বিক্রি করেন। মোস্তাফিজকে তিনি ৬৩ লাখ টাকা দেন। পরে আরও ১১ লাখ টাকা দাবি করে মোস্তাফিজ। ওই টাকা না দিলে ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি করে দেয়া হবে না বলে হুমকি দেন তিনি। পরে পুলিশকে মধ্যস্থতায় ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়নি। নগরীর দরিখরবোনা এলাকার আবু হানিফ। বছরদুয়েক আগে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে তার কাছ থেকে জমির বন্দোবস্ত নেন মোস্তাফিজ। কিন্তু বাড়ির কাজ শুরু করতে না পেরে বাধ্য হয়ে হানিফ জমিটি অপর এক ডেভেলপারকে রেজিস্ট্রি করে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোস্তাফিজ হানিফের নামে উল্টো মামলা দিয়ে আড়াই মাস জেল খাটান। পরে জামিনে মুক্তি পান হানিফ।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক মহিবুল হাসান। তিনি একটি জমিতে ভবন নির্মাণ করার জন্য মোস্তাফিজকে দিয়েছিলেন। কিন্তু সে কোনো শর্তই মানেনি। এরপর চুক্তি বাতিল করেন তিনি। চুক্তি বাতিল করায় ভয়ভীতি দেখানো শুরু করে মোস্তাফিজ। পরে মোটা অংকের টাকা দাবি করে মোস্তাফিজ। শেষে তাকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে রেহাই পান তিনি। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম। মোস্তাফিজ ফ্ল্যাট বিক্রির কথা বলে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা নেন। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই ফ্ল্যাটটি আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে মোস্তাফিজ। রাসিক মেয়রসহ বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে মোস্তাফিজের কাছ থেকে তিনি ওই ২৫ লাখ টাকা ফেরত পান।
রাজশাহী নগরীর বালিয়া পুকুর এলাকার ওমর ফারুক। তাকে ফ্ল্যাট দেয়ার কথা বলে ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। টাকা নেয়ার পর শুরু হয় তার প্রতারণা। ওমর ফারুককে ফ্ল্যাট দেয়া হয়নি। বরং একাধিকবার সালিশ করে সেই টাকা তাকে উদ্ধার করতে হয়। তবে ৩৫ লাখ টাকার মধ্যে তাকে তিন লাখ টাকা দেয়া হয়নি। সাদিকা খাতুন নামের এক নারীর কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা নিয়েছে মোস্তাফিজ। কিন্তু ফ্ল্যাট দিতে পারেনি। ওই টাকার জন্য এখন তিনি ঘুরছেন। এ নিয়ে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সে অভিযোগও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

এখানেই শেষ নয়, মোস্তাফিজকে আশ্রয় দেয়া পালিত মামার জমি গত চার বছর আগে ডেভলপার হিসেবে নেয় মোস্তাফিজ। পরে ওই জমিতে থাকা বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়। কিন্তু চারটি বছর অতিবাহিত হলেও সেই জায়গায় কাজ শুরু করতে পারেনি। তবে এখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে বলে ইতিমধ্যে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা মোস্তাফিজ হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও প্রচার রয়েছে।

জানা গেছে, রাসিকের সাবেক মেয়র লিটনের নাম ভাঙ্গিয়ে তিনি বিগত দিনে চলেছেন। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মেয়র কিছু সমস্যা সমাধান করে দিয়েছেন। তবে বেশির ভাগ সমস্যাই এখনো রয়েছে গেছে। মোটা অংকের টাকা দিয়ে যারা ফ্ল্যাট কিনেছেন তাদের বেশিরভাগকেই ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফ্ল্যাট ক্রেতারা অভিযোগ দিলে উল্টো মোস্তাফিজের রোষানলে পড়তে হয়েছে। কারণ রাসিক মেয়র লিটন ও তার স্ত্রী শাহিন আক্তার রেনী মোস্তাফিজ ও তৌরিদ আল মাসুদ রনির অনৈতিক সব কাজের সেল্টার দিয়ে এসেছে। লিটন ও রেণীর দাপটে মোস্তাফিজ একের পর এক প্রতারণা করে গেছেন। তবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারীতে রনি ও মোস্তাফিজের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব এতোটাই গাঢ় হয় যে খোদ রাসিক মেয়র পর্যন্ত সমাধান করতে হিমশিম খান। দুইজনই মেয়রের খুব ঘনিষ্ঠ ছিল। এক পর্যায়ে ২০২৪ সালের ২৬ মার্চ প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার হন মোস্তাফিজ। পরে রাসিক মেয়র মোস্তাফিজকে জামিনে ছাড়ান। এছাড়াও রনির সাথে বিষয়টি মিমাংসা করে নেয়ার মোস্তাফিজকে নিদের্শ দেন। এই প্রেক্ষিতে মোস্তাফিজ রনির কাছে ক্ষমা চেয়ে ঘটনাটি মিমাংসা করে। তবে এসব বিষয় নিয়ে গত শনিবার মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি হুমকি দিয়ে প্রতিবেদকের হাত পা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি দেন।

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮