অনলাইন ডেস্ক: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বাণেশ্বর হাইওয়েতে বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
জেলা নাকি মহানগর! নাকি হাইওয়ে! এই বিড়ম্বনায় পুলিশের মধ্যে সীমানা সমস্যার সৃষ্টি হলে এবং উদ্ধারকাজে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে বরেন্দ্র ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মিলে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়। পরে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মিলে রাজশাহী-ঢাকার মহাসড়ক অবরোধ করলে দুই প্রান্ত কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে বিপাকে পড়েন অনেকেই। পরে পুলিশের উর্ধ্বতনরা গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার পোল্লাপুকুর এলাকায় রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিপল-ই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম। এছাড়া একজন নারী ও দুজন পুরুষের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন- পুঠিয়ার আটভাগা এলাকার ময়নুল ইসলামের ছেলে মুকুল হোসেন (৩৫), সিংহপাড়ার মুশা মন্ডলের ছেলে মোজাম্মেল হক (৫০), পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার এরশাদ আলীর ছেলে রিফাত হোসেন (৩০), একই উপজেলার মোজাম্মেল হকের ছেলে রুহুল আমিন (৪০) ও একজন শিশু। কর্তব্যরত চিকিৎসক সকলকেই মেডিকেলের ৮ ও ৩১ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
রামেক হাসপাতালে মুখপাত্র ও জরুরী বিভাগের চিকিৎসক শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ‘‘পুঠিয়া থেকে হাসপাতালে দুজনকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ছয়জন আহত অবস্থায় এসেছেন। তাদের হাসপাতালের ৮ ও ৩১ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। এছাড়া নিহত তিন জনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
পবা হাইওয়ে থানার ওসি মোজাম্মেল হক কাজী বলেন, দুর্ঘটনায় কবলিত অটোরিকশাটি পুঠিয়ার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস অটোরিকশাটি চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শান্ত নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে দুজন পুরুষ ও একজন নারী মারা যান। তবে প্রাথমিক অবস্থায় তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও এডিসি সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করলে কয়েক কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা। তবে শেষ খবর যতদূর পেয়েছি, তাতে জেনেছি; পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এবং যানচলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে।
পুঠিয়া থানা পুলিশের ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, অবরোধকারিদের সঙ্গে আলোচনা করে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে রয়েছেন।





