অনলাইন ডেস্ক: নওগাঁর পত্নীতলায় চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় ১৬ মাস বয়সী নিজ কন্যা সন্তানকে আত্রাই নদীতে নিক্ষেপ করেছেন এক মা। তবে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও স্থানীয় এক ব্যক্তির সাহসিকতায় প্রাণে বেঁচে গেছে শিশুটি। বর্তমানে সে শঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে এক নারী পত্নীতলা থানায় এসে স্বীকার করেন যে, তিনি তার কন্যা শিশু আঞ্জুমান আয়াতকে মাহমুদপুর ব্রিজ থেকে আত্রাই নদীতে ফেলে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে গ্রেপ্তারের আবেদন করেন। বিষয়টি জানামাত্র পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন।
এদিকে নদীতে নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হলে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আত্রাই নদী থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন মো. খমির শেখ (৬৫) নামের এক ব্যক্তি। তিনি শিশুটিকে নদীর তীরে এনে প্রাথমিক শুশ্রূষা শুরু করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধারকারীর কাছ থেকে নিয়ে দ্রুত পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
চিকিৎসকরা জানান, সময়মতো উদ্ধার ও চিকিৎসা পাওয়ায় শিশুটি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, যিনি সে সময় পেশাগত কাজে পত্নীতলায় অবস্থান করছিলেন, হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তিনি উদ্ধারকারী মো. খমির শেখকে ধন্যবাদ জানান এবং তার সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন। পাশাপাশি শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদেরও কৃতজ্ঞতা জানান।
শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান জানান, তার স্ত্রী কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সেই মানসিক অবস্থার কারণেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি ধারণা করছেন। তিনি স্ত্রীর মানসিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সন্তানের নিরাপত্তার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি উদ্ধারকারী ব্যক্তি ও জেলা পুলিশ, নওগাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।





