• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

পিআর পদ্ধতি বাংলাদেশের জন্য নয় — এটি জনগণের প্রতিনিধিত্ব হরণ করে

প্রকাশ: সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫ ১:৫৪

পিআর পদ্ধতি বাংলাদেশের জন্য নয় — এটি জনগণের প্রতিনিধিত্ব হরণ করে

কলাম: বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কুচক্রী মহল প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি চালুর দাবি তুলছে। তারা এটিকে “উন্নত বিশ্বের অনুকরণ” বলেও ব্যাখ্যা দিচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই পদ্ধতি কি বাস্তবিকই বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষা করতে পারবে? আমাদের পক্ষ থেকে আমরা বলছি—না, পিআর পদ্ধতি বাংলাদেশের জন্য উপযোগী নয়, বরং এটি জনগণের সরাসরি ভোটাধিকারকে দুর্বল করার এক চতুর কৌশল। পিআর পদ্ধতিতে জনগণ সরাসরি প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে, একটি রাজনৈতিক দলকে ভোট দেয়। সেই দল পরে একটি তালিকা থেকে সংসদ সদস্য মনোনয়ন দেয়। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি সংসদে যাবে, তাকে জনগণ সরাসরি নির্বাচন করে না। সুতরাং এই পদ্ধতি বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক। কারণ : প্রত্যক্ষ ভোটাধিকার খর্ব হয়। নির্বাচনে জনগণ সরাসরি প্রার্থীকে দেখে ভোট দেন। কিন্তু পিআর পদ্ধতিতে ভোটটা চলে যায় দলীয় ‘তালিকাভিত্তিক বাছাইয়ে’। এতে জনপ্রিয়, সৎ, জনবান্ধব নেতার বদলে সুবিধাবাদী, বিত্তশালী ও দলের ঘনিষ্ঠদের অন্ধকার ঘরে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। একটি দল ক্ষমতায় থাকলে, তার হাতেই পুরো সংসদ সদস্য নির্বাচনের ক্ষমতা থাকবে। এতে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে জনপ্রতিনিধির কোনো জবাবদিহিতা থাকবে না। রাজনৈতিক একনায়কতন্ত্র তৈরি হবে। বাংলাদেশের মতো বৈচিত্র্যময় সমাজে অঞ্চলভিত্তিক সমস্যা, ভাষা, সংস্কৃতি, দুর্যোগ আছে। পিআর পদ্ধতিতে সেই আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব ভেঙে পড়ে—তালিকার ‘ঢাকাকেন্দ্রিক’ প্রতিনিধি দিয়ে দেশের সব অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব ও অগণতান্ত্রিক হবে। এর ফলে অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব ধ্বংস হবে। অন্যদিকে দলের তালিকায় নাম তুলতে দলীয় নেতাদের কিনে নেওয়ার প্রবণতা বাড়বে। দুর্নীতিগ্রস্ত ধনীরা সংসদে ঢুকবে, প্রকৃত কর্মীরা পেছনে পড়ে থাকবে। এই অকল্যাণে নির্বাচনে কালো টাকার আধিপত্য বাড়বে।

আমরা মনে করি, গণতন্ত্র মানেই সরাসরি ভোটাধিকার। জনগণ যাকে চায়, তাকেই সংসদে পাঠানোর অধিকার তাদের থাকা উচিত। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) বলেছিলেন: জনগণই হবে সকল ক্ষমতার উৎস। তাই আমরা চাই প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি বজায় থাকুক, জনপ্রতিনিধির জবাবদিহিতা জনগণের কাছে থাকুক, কালো টাকা ও দলের অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটে নয়, জনগণের ভোটে নেতা নির্বাচিত হোক।

পিআর পদ্ধতির কথা যারা বলছে, তারা আসলে ভোটাধিকার হরণ করতে চায়। এটি নতুন ধারার স্বৈরতন্ত্রের ছদ্মবেশ। আমরা এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে, নাগরিকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানাই কারণ বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে, প্রত্যক্ষ নির্বাচনই একমাত্র পথ আমরা পিআর নয়, জনগণের ক্ষমতা চাই!

সুলতান আহমেদ রাহী
আহবায়ক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮