• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৮ অপরাহ্ন
Headline
ফরিদা হত্যা মামলার আরও দুই আসামি গ্রেফতার, ঢাকায়-গাজীপুরে র‌্যাবের যৌথ অভিযান নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬: ক্রিকেটে রাজশাহীর বালক দল চ্যাম্পিয়ন, ফুটবলে বালিকা দল রানারআপ আরপিএসএফের সংবর্ধনায় সোহেল: স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে প্রযুক্তিনির্ভর তরুণরাই হবে শক্তি ৪০০ বছরের বটগাছ ঘিরে অপপ্রচারের প্রতিবাদ, মানববন্ধনে স্থানীয়রা রুয়েটে যোগদান করলেন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবি: ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি দল রুয়েটে এমএসই ডে অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৩ জনের সাজা বেসরকারিকরণ হলে বাড়বে বিদ্যুতের দাম, কমবে সেবার মান: বিদ্যুৎ শ্রমিক ফেডারেশন রাজশাহী নগরীতে পরিত্যক্ত বাড়িতে র‌্যাবের অভিযান, ম্যাগাজিন-গুলিসহ বিপুল আলামত উদ্ধার

রাজশাহীতে জমি দখলের অভিযোগ জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে

sonynews / ৭ Time View
Update : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
রাজশাহীতে জমি দখলের অভিযোগ জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে বৈধভাবে ক্রয় করা জমির দখল বুঝে পেতে বাধা, হয়রানি এবং আদালতের রায় উপেক্ষা করে জমি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মাসুদ রানা।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে নগরীর এএইচ টাওয়ারের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহমখদুম থানার দুরুলের মোড় এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রাজশাহীর বড়বনগ্রাম মৌজার নওদাপাড়া ৩১৫৯ ও ৩১৬০ নং দাগে মোট ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ (বাংলায় দুই কাঠা ৫ ছটাক) শহীদ জিয়া শিশু পার্কসংলগ্ন টিনশেড বাড়ি ও দোকানসহ একটি জমি গত ৫ মার্চ ২০২৫ সালে বৈধভাবে ক্রয় করেন তার স্ত্রী আরিফা খাতুন, যার দলির নং ১৫৫৮/২০২৫ এবং তিনি দশমিক ৪৯ শতাংশ জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন, যার দলিল নং ২০২৩/২০২৫। পরবর্তীতে তার ও তার স্ত্রী আরিফা খাতুনের নামে নামজারি সম্পন্ন হয় এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছর পর্যন্ত সরকারি খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত দলিল ও খতিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, বড়বনগ্রাম মৌজার মোট ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ জমির মালিকানা ১৯৬০ সাল থেকে একাধিক নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে হস্তান্তর হয়। সর্বশেষ ২০০৫ সালে জাকারিয়া আল-আমিন নিজেই জমিটি মোয়াজ্জেম হোসেন ও চাশমে আরা বেগমের কাছে বিক্রি করেন। পরে উত্তরাধিকার ও বিক্রয় সূত্রে ২০২৫ সালে জমিটি আরিফা খাতুনের নামে নিবন্ধিত হয় এবং নামজারি ও খাজনা পরিশোধ সম্পন্ন করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। এরপর জমির দখল বুঝে নিতে গেলে বিএনপির কথিত সহযোগী সংগঠন রাজশাহী মহানগর জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক পরিচয়দানকারী জাকারিয়া আল আমিন জমির মালিকানা দাবি করে দখল গ্রহণে বাধা দেন এবং আদালতে মামলা রয়েছে বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মাসুদ রানা দাবি করেন, জমির দলিল ও খতিয়ান অনুযায়ী মালিকানার  ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে জাকারিয়া আল আমিন ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ জমির মালিক হন। পরে ২০০৫ সালের ২ জানুয়ারি নিবন্ধিত সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে তিনি নিজেই ওই জমি মোয়াজ্জেম হোসেন ও তার স্ত্রী চাশমে আরা বেগমের কাছে বিক্রি করে দখল বুঝিয়ে দেন। পরবর্তীতে উত্তরাধিকার সূত্রে জমিটি চাশমে আরা বেগম ও তার ছেলে শহীদুল হক হায়দারীর কাছে যায়। তারা ২০২৩ সালে ফরহাদ ও ফিরোজ খানের কাছে এবং পরে ২০২৫ সালে ফরহাদ ও ফিরোজ খান ওই জমি আরিফা খাতুনের কাছে বিক্রি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, জাকারিয়া আল আমিন পরবর্তীতে দলিল বাতিলের মামলা দায়ের করলেও আদালতে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি। মামলাটি খারিজ হওয়ার পর আপিল করেও সফল হননি। মহামন্য আদালত বিবাদির পক্ষে রায় দিয়েছে, যার মোকাদ্দমা নং O/C: ১৩৯/১৩। দলিলে ব্যবহৃত ফিঙ্গারপ্রিন্ট জাল হওয়ার অভিযোগও ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়নি, যার অঙ্গুলাংক মামলা নং-FP.02.002.2026। আদালতে উপস্থাপিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট তার নিজের বলে প্রতীয়মান হয় এবং আদালত বিবাদীপক্ষের অনুকূলে রায় দেন বলে দাবি করেন মাসুদ রানা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের একাধিক রায়, সরকারি রেকর্ড, নামজারি ও খাজনা পরিশোধের কাগজপত্র থাকার পরও জাকারিয়া আল আমিন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে তারা চরম হয়রানি, মানসিক নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমির শান্তিপূর্ণ ভোগদখল নিশ্চিত করা, আদালতের রায় বাস্তবায়ন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দখলচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাকারিয়া আল আমিন বলেন, নিম্ন আদালত তার মামলা খারিজ করে দিলেও তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

আপনার প্রতিবেদনের ভাষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি এভাবে লেখা যেতে পারে—

অন্যদিকে, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, “এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। যদি কেউ কারও জমি অবৈধভাবে দখল করে থাকেন, তবে সেটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত দায়-দায়িত্ব। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে বিএনপি কোনোভাবেই সমর্থন করে না।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category