• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৫ অপরাহ্ন
Headline
ফরিদা হত্যা মামলার আরও দুই আসামি গ্রেফতার, ঢাকায়-গাজীপুরে র‌্যাবের যৌথ অভিযান নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬: ক্রিকেটে রাজশাহীর বালক দল চ্যাম্পিয়ন, ফুটবলে বালিকা দল রানারআপ আরপিএসএফের সংবর্ধনায় সোহেল: স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে প্রযুক্তিনির্ভর তরুণরাই হবে শক্তি ৪০০ বছরের বটগাছ ঘিরে অপপ্রচারের প্রতিবাদ, মানববন্ধনে স্থানীয়রা রুয়েটে যোগদান করলেন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবি: ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি দল রুয়েটে এমএসই ডে অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৩ জনের সাজা বেসরকারিকরণ হলে বাড়বে বিদ্যুতের দাম, কমবে সেবার মান: বিদ্যুৎ শ্রমিক ফেডারেশন রাজশাহী নগরীতে পরিত্যক্ত বাড়িতে র‌্যাবের অভিযান, ম্যাগাজিন-গুলিসহ বিপুল আলামত উদ্ধার

তানোরে সরকারি ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ, বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত কৃষক

sonynews / ৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ সরকারি খাদ্য গুদামে চলমান বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়ম ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের আধিপত্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন, আর তাদের নামে ধান সরবরাহ করছেন রাজনৈতিক পরিচয়ের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, চলতি বছরের অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ অভিযানে অনেক প্রকৃত কৃষক অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে কৃষকদের কার্ড ভাড়া নিয়ে কিংবা তাদের অজান্তেই ধান সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ কৃষক ধান নিয়ে গেলে আর্দ্রতাসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নীতিমালা অনুযায়ী কার্ডধারী কৃষকের উপস্থিতিতে ধান ক্রয়ের কথা থাকলেও বাস্তবে তা অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, শত শত কৃষকের নামে ধান সরবরাহ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কৃষকদের অনেকেই এ বিষয়ে অবগত নন। এমনকি যেসব কৃষকের ধান নেই বা যারা ধান দিতে আগ্রহী নন, তাদের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাজারে বর্তমানে মোটা ধানের দাম প্রতি মণ এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকার মধ্যে থাকলেও সরকার প্রতি মণ ধান এক হাজার ৪৪০ টাকা দরে কিনছে। এ মূল্য ব্যবধানকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি বাইরের জেলা থেকে ধান এনে সরকারি গুদামে সরবরাহ করে অতিরিক্ত মুনাফা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৯ মে তানোরে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ কর্মসূচির আওতায় সরকার ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল এবং নির্ধারিত পরিমাণ গম সংগ্রহ করছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।

কামারগাঁ সরকারি খাদ্য গুদামে কামারগাঁ ও কলমা ইউনিয়ন থেকে মোট ৫৫৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সরকার এ উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে প্রকৃত কৃষকরা কতটা উপকৃত হচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা বলেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি কৃষকদের তথ্য ব্যবহার করে তালিকা প্রস্তুত করেছেন এবং সরকারি সুবিধা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে প্রকৃত কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং সরকারের কৃষিবান্ধব উদ্যোগের সুফল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসিএফ) পারভিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে কামারগাঁ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এলএসডি) আতিকুর রহমান আতিক সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই ধান, চাল ও গম সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য জানেন না। কবে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় ধান জমা দেওয়া যায়—এ বিষয়ে তাদের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। অনেক কৃষকই সরকারি ক্রয়মূল্য কিংবা একজন কৃষক কতটুকু ধান সরবরাহ করতে পারেন, সে সম্পর্কেও অবগত নন।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে ব্যাপক প্রচারণা, কৃষকদের সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category