স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে মাইক্রোবাস, জিপগাড়ি ও ভাড়ায় চালিত কারচালকদের একটি সংগঠনকে আইনি স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উপলক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হস্তান্তর এবং অফিস পরিদর্শন অনুষ্ঠান সোমবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর রাজিব চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, ন্যায্য দাবি আদায় এবং ভাড়া সিন্ডিকেটের মতো অনৈতিক কার্যকলাপ প্রতিরোধে এই রেজিস্ট্রেশনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রমবিষয়ক কর্মকর্তা সালমা খাতুন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজশাহী মহানগর সভাপতি আ. সামাদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক আজিজুল ইসলাম, অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি হাফেজ খাইরুল ইসলাম, ইউনিয়নের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জিলহজ্জ ইসলাম প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মিজানুর রহমান বলেন, “শ্রমিকদের অধিকার সংবিধানে সুনিশ্চিত। সংগঠন থাকলে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। রেজিস্ট্রারভুক্ত সংগঠন শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আইনি ভিত্তি দেয়, যা নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাদের রক্ষা করে।”
তিনি আরও জানান, শ্রম অধিদপ্তর শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিতে পাশে থাকবে এবং সংগঠনের মাধ্যমেই শ্রমিক কল্যাণ সম্ভব।
এ সময় অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি হাফেজ খাইরুল ইসলাম বলেন, “রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাইক্রো স্ট্যান্ডে কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ে লাশ পরিবহনে সিন্ডিকেট চালাচ্ছে। এটা অমানবিক। মৃত ব্যক্তির স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সংগঠন এমন অনৈতিক কাজ করবে না, এবং কাউকে করতে দেবে না।”
তিনি আরও জানান, মৃত স্বজন পরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ হবে উভয়পক্ষের সম্মতিতে — চাঁদাবাজি কিংবা জবরদস্তি বরদাশত করা হবে না।
অনুষ্ঠানে শ্রমিকদের সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা, রেজিস্ট্রেশনের আইনি দিক, অধিকার আদায়ের কৌশল এবং শ্রমিক ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, নব গঠিত এই সংগঠনটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।





