নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘রাজশাহী অঞ্চলে টেকসই মৃত্তিকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় গবেষণাগারের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (০১ জুন) সকাল ১০ টায় রাজশাহী জেলার প্রান্তিক কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে একটি সেমিনারের আয়োজন করে রাজশাহী বিভাগীয় মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই)।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচারক কৃষিবিদ মো. জালাল উদ্দিন। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আ.ফ.ম মনজুরুল হক এবং সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম।
সেমিনারে বক্তরা বলেন, ‘দেশের আবাদী জমিতে অতিরিক্ত রাসয়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং নদী-নালা, খাল-বিল ও পুকুর-জলায়শ শুকিয়ে যাওয়ায় আবাদী জমিতে বাড়ছে অম্লত্ব। বর্তমানে দেশের প্রায় ৪৬ শতাংশেরও বেশি জমিতে এই অম্লত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সাধারণ কৃষক এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। একারণে কৃষিজাত ফসলে দেখা দিচ্ছে নানান সমস্যা। সুতরাং, মাটির অম্লত্ব দূরীকরণে আবাদী জমি পরীক্ষা অতীব জরুরী। আর এনিয়ে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসআরডিআই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করেছে।
সেমিনারে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা দেশের প্রতিটি জেলায় মৃত্তিকা গবেষণাগার স্থাপনের দাবি তোলেন এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে মাসে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ স্থানের জমি পরিদর্শন করে সেখানকার মৃত্তিকার পরীক্ষা-নিরীক্ষার তাগিদ দেন। কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের দাবির প্রেক্ষিতে এসআরডিআই এর মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় আপাতত ল্যাব স্থাপন করার মতো স্বামর্থ আমাদের নেই। এক্ষেত্রে কিছুটা আর্থিক অস্বচ্ছলতার বিষয় রয়েছে। তবে আমরা পূর্বের চেয়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনার এবং মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে কৃষকদের মাটি পরীক্ষা করার বিষয়ে জোরালোভাবে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছি’।
তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানের মাটি পরীক্ষা করে কৃষকদের সমস্যা অনুসারে তাদের ‘সার সুপারিশ কার্ড’ প্রদান করছি। এই কার্ডের মাধ্যমে তারা কৃষি দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় সুবিধা পাবে। এছাড়াও কিভাবে অনলাইনের মাধ্যমে কৃষকরা ‘সার সুপারিশ কার্ড’ পাবে সে ব্যাপারেও আমরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। তবে মাটিকে সুস্থ রাখতে কৃষকদের অবশ্যই জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাষকের প্রয়োগ কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহার করতে হবে’, বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সেমিনারে ‘মাটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় মৃত্তিকা গবেষণারের ভূমিকা’র পাশাপাশি ভেজাল স্যার চেনার উপায় ও জমিতে স্যার ব্যবহারের পরিমাণের ব্যাপারেও আলোচনা করা হয়। এছাড়াও মাটির অম্লত্ব দূর করতে ডলোচুনের প্রয়োগের বিষয়েও আলোকপাত করা হয়।

















