নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২১ জুন রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচন। এই নির্বাচন সামনে রেখে রাসিকের ১৯ নং ওয়ার্ডে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। এলাকাবাসী বলছেন, পুরাতন অনেককে দেখলাম। কিন্তু এবার আমরা নতুন কাউকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চাই।
যে সুখ-দু:খ, বিপদে ও নানা সমস্যায় এলাকাবাসীর পাশে ছায়া হয়ে থাকবেন। তাদের অভাব অভিযোগ দেখবেন ও সমাধান করবেন।
এই ওয়ার্ডটির বর্তমান কাউন্সিলর হলেন যুবলীগ নেতা তৌহিদুল হক সুমন। তিনি এবারও নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। এছাড়া আরেক যুবলীগ নেতা আশরাফ বাবুও নির্বাচন করবেন বলে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন ও যুবলীগ নেতা আশরাফ বাবু সম্পর্কে মামাতো-ফুপাতো ভাই বলে জানা গেছে। এর বাইরে বিএনপি সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলর নূরুজ্জামান টিটো নির্বাচন করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া সমাজসেবক মোঃ রজব আলী বাবু এবারের নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হতে পারেন বলে তার অনুসারীরা জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৫ বছর ধরে তৌহিদুল হক সুমন কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তিনি ওয়ার্ডের উন্নয়নে কিছু কাজ করলেও এলাকাবাসী তাকে নিজেদের মত করে কাছে পাননি। এলাকার উন্নয়নে এলাকাবাসী পুরোপুরি সন্তষ্ট হতে পারেননি। ফলে ভোটারদের একটা বড় অংশ তার ওপর নাখোশ।
আশরাফ বাবু গতবার তৌহিদুল হক সুমনের পক্ষে ছিলেন। তবে এবার তিনি নির্বাচনে লড়বেন বলে ব্যাপক পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিন বছর আগে থেকে নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন তিনি। অথচ এই আশরাফ বাবু গেলবার তৌহিদুল হক সুমনের হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করেছেন।
আশরাফ বাবু কাউন্সিলর হলে এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন বলে তার সমর্থকেরা মনে করেন। বিএনপি সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলর নুরুজ্জামান টিটু এবার নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে তার ঘণিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিবেশ অনুকুলে থাকলে তিনি নির্বাচন করবেন। এরআগে ১৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর থাকাকালে নুরুজ্জামান টিটুর জনপ্রিয়তা ছিলো চোখে পড়ার মতো। এলাকার উন্নয়নে তিনি বাজেট অনুসারে অনেক কাজ করেছেন।
এদিকে সাবেক কাউন্সিলর নূরুজ্জামান টিটু নির্বাচন না করলে সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত রজব আলী বাবু কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হতে পারেন বলে তার অনুসারীরা মনে করছেন। সক্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িত না হয়েও ওয়ার্ডবাসির মনে আস্থার জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন রজব আলী বাবু।
যদিও তিনি নির্বাচন করার সরাসরি ঘোষণা দেননি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে রজব আলী বাবুর নাম। কারণ হিসেবে জানা গেছে, করোনা মহামারীকালে এলাকার ঘরবন্দী মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন রজব আলী বাবু। নিজ উদ্যোগে নিজস্ব অর্থায়নে অস্বচ্ছল ও অসহায় মানুষকে সাধ্যমত সহায়তা করেছেন। কিন্তু অন্যদের মত কোনো প্রচার প্রচারণা চালাননি তিনি। মসজিদ-মাদরাসাসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অসুস্থ রোগীর সেবা, সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে অর্থায়ন ও সহায়তার ক্ষেত্রে রজব আলী বাবু যে অবদান রেখেছেন তা এলাকাবাসীর কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। জনপ্রতিনিধি না হলেও সুখেদুখে মানুষের পাশে থাকেন তিনি। ক্লিন ইমেজের এই ব্যক্তিকে এবারের নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে।
ওয়ার্ডে বেশির ভাগ যুবক-যুবতী, তরুণ-তরুনী, নারী-পুরুষসহ অধিকাংশ ভোটাররদের মুখে মোঃ রজব আলী বাবুর নাম শুনা যাচ্ছে মুখেমুখে।
তিনি সমাজের ভদ্র এবং শিক্ষিত তরুন ও যুবকদের কাছে নিজেকে জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে আড়াল করতে ২০ বছর পূর্বে শিরোইল কলোনি এলাকায় লাল-সবুজ নামে একটি ক্রিকেট একাডেমি গড়ে তুলেছিলেন। এই একাডেমিতে তৈরি করেছেন জাতীয় ক্রিকেটারসহ একাধিক প্লেয়ার। বর্তামানে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আজ বন্ধ পড়ে রয়েছে। এ দায়ী কার তা এলাকাবাসী ওয়াকিবহাল রয়েছেন বলে জানান, নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রিকেট ভক্তরা।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার সমর্থকরা প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জানতে চাইলে বর্তমান কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন বলেন, আমার মেয়াদকালে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আশা করি ভোটাররা এর মূল্যায়ন করবেন। উন্নয়নের কারণে এলাকাবাসী আমাকে আবারও কাউন্সিলর নির্বাচিত করবেন।
এব্যাপারে রজব আলী বাবুর বক্তব্য পাওয়া না গেলেও ঘনিষ্ঠজনরা বলেন, এলাকাবাসী বাবুর ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন। ঘোষণা দিলে প্রচার প্রচারণায় মাঠে কাজ শুরু করবেন এলাকাবাসীরা। তারা আরও বলেন, জনগণ চাইলে শতভাগ আশা করা যায় এবারের নির্বাচনে মোঃ রজব আলী বাবু বিপুল ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হবো।
সনি বাংলা ডট কম/এবিএম





