২০০৭ সালের ১৩ জুলাই স্পেনের কাতালোনিয়ার এসপ্লুগেস দে লোব্রেগাতে জন্ম নেন লামিন ইয়ামাল নাসরাউই এবানা। তার বাবা মুনির নাসরাউই মরক্কো বংশোদ্ভূত এবং মা শেইলা এবানা ইকুয়েটোরিয়াল গিনির বংশোদ্ভূত। ছোটবেলা কেটেছে বার্সেলোনার উপকণ্ঠের রোকাফোন্দা এলাকায়, যেখানে সাধারণ জীবনযাপন করেই তিনি বড় হয়েছেন।
লামিন ইয়ামাল মুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। মাঠে গোল করার পর তাকে একাধিকবার ইসলামী রীতি অনুযায়ী সিজদা করতে দেখা গেছে। নিজের আরবি নাম এবং পারিবারিক ঐতিহ্য নিয়েও তিনি গর্ব প্রকাশ করেন।
শৈশবে তাদের পরিবার আর্থিক সংকটে ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিবেশীরাও কঠিন সময়ে তাদের পরিবারকে সহায়তা করেছিলেন। সেই কৃতজ্ঞতার স্মৃতিই আজও তিনি বয়ে বেড়ান। লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেওয়ার পরই তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় এবং অল্প বয়সেই বার্সেলোনার মূল দলে জায়গা করে নেন। (Reddit)
মাত্র কিশোর বয়সেই তিনি বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠদের অনেক রেকর্ড নিজের নামে লিখেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের সাফল্যেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তরুণ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
সম্প্রতি বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা উদযাপনের সময় খোলা বাসে দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন লামিন ইয়ামাল। এই ঘটনাকে অনেকে ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে দেখেছেন। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও প্রকাশ্যে তাকে ধন্যবাদ জানায়।
তবে তিনি এ বিষয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি; প্রকাশ্যে যা দেখা গেছে, তা হলো ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির একটি প্রতীকী প্রকাশ।
ফুটবলের বাইরে মানবিক কাজেও নিজেকে যুক্ত করেছেন লামিন ইয়ামাল। তিনি ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে শিশুদের নিরাপদে খেলাধুলা, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তার পক্ষে কাজ করছেন।
দারিদ্র্য থেকে উঠে আসা, মুসলিম পরিচয়ে গর্ব, পরিবারের প্রতি ভালোবাসা, মানবিক মূল্যবোধ এবং অসাধারণ ফুটবল প্রতিভা—সব মিলিয়ে লামিন ইয়ামাল আজ শুধু স্পেনের নন, বিশ্বের কোটি কোটি তরুণের অনুপ্রেরণার নাম। অনেক ফুটবল বিশ্লেষক মনে করেন, আগামী এক দশকে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড়দের একজন হয়ে উঠতে পারেন এই তরুণ তারকা।