আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কলকাতার তপসিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণহানির শোক কাটতে না কাটতেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বুলডোজার অভিযান নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অগ্নিদগ্ধ চামড়ার কারখানার মালিক জাফর নিশারকে গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বহুতল ভবন ভাঙার নির্দেশ এবং তা বাস্তবায়নের ঘটনাকে অনেকেই প্রশাসনিক কঠোরতার আড়ালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন।
মঙ্গলবারের অগ্নিকাণ্ডে দুইজনের মৃত্যু এবং কয়েকজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রত্যাশা করেছিল সাধারণ মানুষ। কিন্তু তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই যেভাবে তড়িঘড়ি করে বুলডোজার চালানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, ভবনটি অবৈধভাবে নির্মিত ছিল এবং সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল না। একই সঙ্গে কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর ও একবালপুরের মতো এলাকায় অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে কেউ কেউ প্রশাসনিক কঠোরতা বললেও সমালোচকদের মতে, এটি নাগরিক অধিকার ও মানবিক দিক উপেক্ষা করে পরিচালিত একতরফা শক্তি প্রদর্শন।
বিশেষ করে ভবনটিতে বসবাসকারী বা ব্যবসা পরিচালনাকারী অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বা পুনর্বাসনের ঘোষণা না থাকায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ নোটিশ, সময় বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই ভবন ভাঙা হয়েছে।
ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি এ ঘটনাকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, কোনো অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে তা অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন— বছরের পর বছর ধরে এই কারখানা চলতে থাকলেও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তখন কোথায় ছিলেন? শুধু মালিককে দায়ী না করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পৌর প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্তাদেরও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সমালোচকদের মতে, দুর্ঘটনার বিচার ও প্রশাসনিক সংস্কারের বদলে যদি তাৎক্ষণিক বুলডোজার রাজনীতি চালু হয়, তাহলে সেটি আইনের শাসনের জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়াবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার আদালতের মাধ্যমে হওয়া উচিত, বুলডোজারের মাধ্যমে নয়।





