• রাজশাহী, বাংলাদেশ
  • ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধন এর জন্য আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • news@sonybangla.news
  • ০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮

দশম গ্রেডে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের সুযোগ অযৌক্তিক দাবি: রাজশাহী পলিটেকনিক এলামনাই এসোসিয়েশনের প্রতিবাদ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ৩:২৮

দশম গ্রেডে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের সুযোগ অযৌক্তিক দাবি: রাজশাহী পলিটেকনিক এলামনাই এসোসিয়েশনের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দশম গ্রেডকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য উন্মুক্ত করার প্রস্তাবকে “অযৌক্তিক ও ইতিহাসবিরোধী” আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী পলিটেকনিক এলামনাই এসোসিয়েশন। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাতে নগরীর সীমান্ত অবকাশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রকৌশল খাতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররাই মূল চালিকাশক্তি। ১৮৭৬ সালে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে (বর্তমান বুয়েট) ডিপ্লোমা কোর্স চালুর মধ্য দিয়েই দেশে প্রকৌশল শিক্ষার সূচনা হয়। টানা ৭৩ বছর (১৮৭৬-১৯৪৯) কেবল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররাই শিল্প, নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

১৯৪৯ সালে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং চালু হলেও দেশের বিদ্যুৎ, পানি, সড়ক, সেতু, শিল্প ও কারিগরি উন্নয়নে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা এখনো অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। বিদেশেও হাজারো ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মর্যাদা খর্ব করার চেষ্টা চলছে—পদবী পরিবর্তন, ফোরম্যান বা সুপারভাইজার বানানোর ষড়যন্ত্র ইত্যাদির মাধ্যমে। এসব প্রতিরোধে আন্দোলন, ত্যাগ ও রক্তদানের পর ১৯৭৮ ও ১৯৯৪ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-

উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে ৩৩% পদোন্নতি, ১০ম গ্রেডভুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও সমমানের পদে শুধুমাত্র ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ,
প্রকৌশলী পদবীর স্বীকৃতি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই ঐতিহাসিক অধিকারকে খর্ব করার জন্য দশম গ্রেডে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের সুযোগ দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। যা “অবিচার, সরকারি আদেশ অমান্য এবং বাস্তবতাকে অস্বীকারের শামিল” বলে মন্তব্য করেন মাহমুদ হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী পলিটেকনিক এলামনাই এসোসিয়েশন তাদের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে:
১। ১৯৭৮ ও ১৯৯৪ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
২। প্রকৌশল বিভাগকে ডেস্ক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএসসি) ও ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (ডিপ্লোমা) দুই ধারায় বিভক্ত করতে হবে।
৩। একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করে ডিপ্লোমা থেকে বিএসসি ভর্তির বাধ্যতামূলক সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
৪। আন্তর্জাতিক মানে ডিপ্লোমা কারিকুলাম হালনাগাদ ও উচ্চশিক্ষার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
৫। উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদকে ফোরম্যান/সুপারভাইজার/টেকনিশিয়ান পদে রূপান্তরের ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইডিইবি’র কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর জিয়া উদ্দিন আহমেদ, সভাপতি এ আর জামিল ইদি, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীবসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম সজল, শিক্ষক প্রতিনিধি সোহানুর রহমান সবুজ, ছাত্র প্রতিনিধি সোহানুর রহমান সোহান ও জাকির হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আরিফুল ইসলাম আরিফ সঞ্চালনায় পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে সভাপতি মাহমুদ হোসেন লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান এবং প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।

সর্বশেষ সংবাদ

 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



প্রকাশক ও সম্পাদক: মো: ইফতেখার আলম বিশাল

যোগাযোগ: শিরোইল গৌধুলী মার্কেট ঢাকা বাস টার্মিনাল বোয়ালিয়া রাজশাহী। ই-মেইল: smbishal18@gmail.com, মোবাইল:০১৭৭৫-৫৮৯৫৫৮