স্টাফ রিপোর্টার: নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং পদক্ষেপের আলোকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলশ্রমিক ও কর্মচারী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দুটি দিনের বর্ধিত সভা রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী কমিটির একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং ছয় মাসের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব ও নির্বাহী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সর্বশেষ কাউন্সিল ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, ফলে নতুন নেতৃত্বের সুযোগ তৈরির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বর্তমান ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যে ১৭ জন ১২-১৫ বছর আগে অবসর গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া, সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম দীর্ঘ ২২ বছর ধরে তার পদে রয়েছেন, এবং সাধারণ সম্পাদক এম আর মঞ্জু ১০ বছর ধরে তার দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে নতুন নেতৃত্বের অনুপ্রবেশ না হওয়া নিয়ে উদীয়মান নেতাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
সভায় অবসরে যাওয়া সিনিয়র নেতাদের নির্বাহী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া, আগামী ৬ মাসের মধ্যে একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটিকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দিনে সভায় বিতর্ক এবং আলোচনা হয়, যেখানে কিছু নেতাকর্মী অবসরপ্রাপ্ত নেতাদের অপসারণ এবং তরুণ নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়ার দাবি তোলেন। তবে, সভাপতি রফিকুল ইসলাম বিষয়টি সমাধান করে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং অবসরে যাওয়া নেতাদের নির্বাহী কমিটিতে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এদিকে, কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক মো: সাইফুল্লা মজুমদার সোহাগ জানান, বর্তমানে দলের কমিটির নেতৃত্বের মধ্যে কিছু পদত্যাগ ও পরিবর্তন এসেছে, যেমন, মিজানুর রহমান চৌধুরী যিনি দলের কার্যকরী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তিনি সম্প্রতি তার পদ থেকে অব্যাহতি ঘোষণা করেছেন।
এছাড়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস পলাশ এবং সোহাগ মন্তব্য করেন যে, গত ছয় বছর ধরে নিয়মিত সভা ও কাউন্সিল আয়োজন করা হয়নি, যার ফলে দলের কার্যক্রম কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। এখন ৭৮টি শাখা নিয়ে সংগঠনটি দ্রুত কার্যকর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য কাউন্সিল আয়োজনের দাবিতে সরব।
শেষে, সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, যেসব নেতারা মৃত্যুবরণ করেছেন অথবা দল থেকে নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন, তাদের স্থানে নতুন সদস্যদের যোগদান করা হবে। পাশাপাশি, একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি সাজানোর জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এ সভা থেকে সংগঠনের ভবিষ্যৎ এবং নতুন নেতৃত্বের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা দলের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং কার্যকর করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।





