• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন
Headline
নগরীতে পুলিশের অভিযানে দুই মাদক ব্যাবসায়ী গ্রেফতার বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে বৃক্ষরোপণ করলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী চন্দ্রিমায় পুলিশের অভিযানে চোরাই ভ্যান ও বিভিন্ন মালামালসহ চোর গ্রেপ্তার শিরোইল কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বোয়ালিয়া থানা (পূর্ব) বিএনপির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন মতিহারে নারীসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার রাবি ছাত্রদলের উদ্যোগে ‘রক্তাক্ত জুলাই: স্মরণ ও প্রত্যয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে কর্মজীবনে ৫৮ সহকারী পুলিশ সুপার নানা আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো আরইউজের ‘ফ্যামিলি ডে-২০২৬ একই জমিতে একাধিক লাইসেন্স, ফিল্ড কানুনগো মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

অবৈধ সম্পদ অর্জনে রাজশাহীতে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সনি নিউজ / ৮৮ Time View
Update : সোমবার, ২০ মে, ২০২৪

অনলাইন ডেস্ক: ৬২ লাখ ৯ হাজার ৩০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজশাহীতে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২০ মে) দুদকের সমন্বিত রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং নকল স্ট্যাম্প দুদকে জমা দিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের নাম মেহেদী হাসান। নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত একজন কনস্টেবল। তার গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার চকবিজলী গ্রামে। সোমবার ২০ মে কাল বেলার একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

তাতে বলা হয়েছে মেমেহেদী হাসান তার এসব অবৈধ সম্পদ বৈধ দেখাতে ৪৮টি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে জমি বন্ধক রেখে ১৮ লাখ ও ৩৩ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ দেখান। তবে দুদক অনুসন্ধান করে দেখেছে, জমি বন্ধক ও ঋণচুক্তির স্ট্যাম্পগুলো নকল।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেলে মেহেদী হাসানকে তার সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য বলা হয়। তখন মেহেদী হাসান ৪৮টি স্ট্যাম্পে লিখিত ও স্বাক্ষরিত চুক্তি সংবলিত রেকর্ডপত্র দাখিল করেন। এসব স্ট্যাম্পে আটজনের সঙ্গে জমি বন্ধক রাখা বাবদ ১৮ লাখ টাকা এবং আরও আটজনের কাছ থেকে ৩৩ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ দেখান। এই স্ট্যাম্পগুলো ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাটের স্ট্যাম্প ভেন্ডার সাইদুল ইসলাম বিক্রি করেছেন বলে সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে। তবে দুদক জয়পুরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাচাই করে দেখেছে, ট্রেজারি শাখা থেকে এসব স্ট্যাম্পের মধ্যে ৪২টি ২০২১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ও ৬ সেপ্টেম্বর ভেন্ডার সানোয়ার হোসেন দেলু এবং ৬টি ২০১৭ মালের ২২ জুন শহীদুল ইসলাম নামের এক ভেন্ডারের কাছে সরবরাহ করা হয়।

সানোয়ার হোসেন দেলুর বক্তব্য ও তার বিক্রয় রেজিস্টার যাচাই করে মেহেদী হাসানের দাখিল করা স্ট্যাম্পগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মেহেদী হাসান অসৎ উদ্দেশ্যে তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীর সঙ্গে এ ধরনের নকল স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র ও বন্ধকীসংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য দিয়ে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

সমন্বিত রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন জানান, মেহেদী হাসানের নামে মোট ৯১ লাখ ২৪ হাজার ২৫৪ টাকার অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। তার ঋণের পরিমাণ ৯ লাখ ৩০ হাজার ৮৭০ টাকা। ঋণ বাদে অর্জিত সম্পদের নিটমূল্য ৮১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৮৪ টাকা। এ ছাড়া মেহেদীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ১৩ লাখ ৭৭ হাজার ৩২৩ টাকা পারিবারিক কাজে ব্যয় করেছেন।

ঋণের কিস্তির সুদ পরিশোধ করেছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৮৭ টাকা। ফলে তার মোট সম্পদ পাওয়া যায় ৯৬ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪ টাকার। আর তার গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ৩৪ লাখ ৭৫ হাজার ৬৪ টাকা। ফলে তিনি অসৎ উপায়ে আয়বহির্ভূত ৬২ লাখ ৯ হাজার ৩০ টাকা মূল্যের সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। অবৈধ এ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখল করে তিনি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

নকল স্ট্যাম্পে মিথ্যা বন্ধকীপত্র দাখিল করে এবং আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের মালিকানা অর্জন করার অপরাধে কনস্টেবল মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় মামলা করা হয়েছে। পরে আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য মামলার এজাহার রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান দুদকের এই সহকারী পরিচালক।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মেহেদী হাসান বলেন, মামলার বিষয়ে আমি এখনো জানি না, সুতরাং আমি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category